বগুড়ায় প্রেমিকের ফাঁদে পড়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা !

232
বগুড়ায় প্রেমিকের ফাঁদে পড়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা ! ছবি-আকাশ

সুপ্রভাত বগুড়া (আকাশ সরকার রাসেল বগুড়া): বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫ নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মেয়ে সুলতানা অাক্তার (২৫) ভালবাসার সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত না গড়ায় অাত্মহত্যা করেছে ২৬ মে। কাহালু উপজেলার ওলাহালী গ্রামের অাহসান হাবিব (৩৫) পিতা মৃত অাঃ হান্নান নামের এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

এই সম্পর্কের জের ধরে অাহসান হাবিব সুলতানার থেকে ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় এজহার দায়ের করে অাহসান হাবিবের বিরুদ্ধে।

সুলতানার বাবা গোলাম বলেন, অামার দুই ছেলে বিদেশে থাকে তারা অামার মেয়ের এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাত। অামার মেয়ে সুলতানা অাহসান হাবিবকে ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছে ।১০ বছরের সম্পর্ক ছিল তাদের।

বিয়ে করবে বলে অাশ্বাস দিয়ে অামার মেয়েকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যাইতে বলে। অামার অজান্তে অামার নাতনিকে নিয়ে অাহসান হাবিবের বাড়ি যায় এরপর অামার মেয়েকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পাই।

তিনি অারো বলেন, অামার দুই ছেলে ১২ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে মারা যাওয়ার পর জানতে পারি ১২ লক্ষের মধ্য অার বাকি ৩ লাখ টাকা রয়েছে একাউন্টে। বাঁশবাড়িয়া গ্রামের স্থানীয়রা জানান, সুলতানা প্রতিবন্ধী তার পা তুলনামূলকভাবে চিকন ছিল। অাহসান হাবিবের সাথে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের এই সম্পর্ক ১০ বছরের বেশি ধরে চলছিল। অামরাও জেনেছি সেই ছেলে বিয়ে করবে সুলতানাকে সেই সুবাদে টাকাও দিত।

সুলতানার ভাতিজি বলেন, অামি ফুফির সাথে ছিলাম মারা যাওয়া পর্যন্ত। অাহসান হাবিব বিয়ে করার কথা বলে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যাইতে বলে । ফুফি অাহসান হাবিবের বাড়িতে যায় গিয়ে দেখে সে বিয়ে করেছে। এই সময় তারা দুই জন বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে হাবিব সুলতানাকে মেরে তাড়িয়ে দেই। তৎক্ষনাৎ গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে সুলতানা তার বাড়ির পাশে।

এরপর বিষয়টি টের পেয়ে অাহসান হাবিব সিএনজি নিয়ে সুলতানাকে নিয়ে জামগ্রাম নিয়ে যায় পরে বিজরুল হাসপাতালের কাছে রেখে পালিয়ে যায় । বিজরুল হাসপাতাল থেকে রিফার্ড করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে পাঠানো হয় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

বিকাশের দোকানের মালিক রাজকুমার বলেন, সুলতানা অামার বিকাশ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার বা তার বেশি পাঠিয়েছে। ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার পর্যন্ত পাঠায়। তাকে জিজ্ঞেস করলে বলে টাকা অামার প্রয়োজনে পাঠায় এছাড়া কিছু বলেননি তিনি।

একদিন ৮০ হাজার নিয়ে এসেছিল অামি তাকে ফিরে দেই। অাহসান হাবিবের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি অামাদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। ওলাহালী গ্রামের কিছু লোক জানায় সুলতানা অনেক অাগে থেকেই অাসা যওয়া করত।

২৬ মে হঠাৎ দেখতে পাই মেয়েকে নিয়ে সিএনজি করে যাচ্ছিল অাহসান হাবিব। মেয়েকে দেখে অসুস্থ মনে হল বমি করতেছিল। মেয়ের বাবা গোলাম বলেন, এ বিষয়ে কাহালু থানায় এজহার করেছি। সবার সহযোগিতা চাই সুষ্ঠ বিচারের জন্য।