বগুড়ার শহরদিঘী বেড়াতে গিয়ে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারালো যুবক !

বগুড়ায় বেড়াতে গিয়ে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারালো যুবক !

আলী হাসান ও সবুজ সওদাগর দুই বন্ধু। দুজনই মাদকাসক্ত। আবার দুজনের নামেই রয়েছে হত্যা মামলা। সেই ঘনিষ্ট বন্ধু সবুজের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তার ছুরিকাঘাতে আরেক বন্ধু আলী হাসান নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকালে সদর উপজেলার শহরদীঘি পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলী হাসান বগুড়া শহরের মালগ্রান পশ্চিমপাড়া এলাকার জিন্নাহর ছেলে। পেশায় ট্রাকচালকের সহকারী এবং বগুড়া সদরের ফাঁপোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম রকি হত্যা মামলার আসামি।

Pop Ads

একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত সবুজ সওদাগর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের জেলা সভাপতি। তার বিরুদ্ধেও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক বলেন, দুপুরের দিকে শুনি সবুজ সওদাগরের বাড়িতে হাসান নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে এই এলাকায় এসে খোঁজ নিলে জানতে পারি সবুজ ছুরিকাঘাত করে হাসানকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরে বিকালে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

সবুজ হত্যা মামলার আসামি। সে ও তার পরিবারের সবাই মাদকাসক্ত। আমরা এলাকাবাসী অনেকবার তাদের সতর্ক করলেও কোনো কথা শোনেনি। হাসান সবুজের বাড়িতে নিয়মিত আসত। এখানে এসে তারা মাদক সেবন করত।

ফাঁপোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাকে অজ্ঞাতপরিচয় একটা নম্বর থেকে জানায় সবুজ সওদাগর এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে ঘরে তুলে রাখছে। পরে এলাকার লোকজন সবুজের বাড়িতে যায় এবং তাকে আটকানোর চেষ্টা করে।

পরে পুলিশকে জানালে এর মধ্যে আহত হাসানকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যায় সবুজ। সবুজ ও হাসান ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। এমনকি তারা দুজনেরই হত্যা মামলার আসামিও ছিল। তাদের নানা অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল।’

ওসি ওলিউল্লাহ বলেন, ‘ছুরিকাঘাতে আলী হাসান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবুজ পলাতক রয়েছে। আমরা তাকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করেছি।’