বগুড়ার শিবগঞ্জ খাদ্য কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে ছিনতাই!

145
বগুড়ার শিবগঞ্জ খাদ্য কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে ছিনতাই! ছবি-অভিজিৎ বাপ্পি

সুপ্রভাত বগুড়া (অভিজিৎ বাপ্পি শিবগঞ্জ প্রতিনিধি): বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার খাদ্য  কর্মকর্তাকে অভিনব কায়দায় ব্ল্যাক মেইল করে ঘরে আটকে রেখে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। গত সোমবার (১ জুন) অনুমান ৫ টার দিকে উপজেলা সদরের নাগরবন্দর এলাকার নাটমরিচাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (০২ জুন) ভোর রাতে অভিযান চালিয় ছিনতাইকারী টিমের ৭ সদস্যকে আটক করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, সোমবার বিকেলে খাদ্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন সরকার অফিস থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে নাগরবন্দরের একটি গোডাউনে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়। একটু দূরে যেতেই দুজন বোরকাপড়া মহিলা সিএনজি আটকিয়ে নাগরবন্দর যেতে চায়। রিজার্ভের কথা বলে নিষেধ করা সত্বেও তারা সিএনজিতে উঠে বসে। একটু দূরে যেতে চলন্ত সিএনজির সামনের সিটে নাগরবন্দর যাওয়ার কথা বলে জোর করে আর একজন ছেলে উঠে বসে।

তখন আগের দুই মহিলার একজন পথের মধ্য নেমে পড়লে সামনের ছেলে পিছনের ছিটে এসে বসে। এরপর বাকি একজন মেয়ে হঠাৎ করে তার বুঁকের কাপর ছিঁড়ে ফেলে ও যাত্রী বেশি ঐ ছেলে জোর করে খাদ্য কর্মকর্তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে পার্শ্ববর্তী নাট মরিচাই গ্রামের একটি ঘরে আটকে রাখে।

এরপর ছিনতাইকারীদের সাথে যুক্ত হয় আরও চার জন। এসময় তারা আচমকাই ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে বলে টাকা না দিলে এই মেয়ের সাথে অশ্লীল ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবো। অস্ত্রের মুখে জিম্মিকরে প্রাণ নাশের হুমকী দিলে পরে নিরুপাই হয়ে দুইজন পরিচিত লোকের কাছে ফোন দিয়ে তাদের দেয়া বিকাশ নাম্বারে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান খাদ্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে সব কথা খুলে বলেন ও থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। ঘটনার পর ছিনতাইকারীদের দেয়া বিকাশ ফোন নাম্বারের সূত্র ধরে সারা রাত অভিযান চালিয়ে ভোর রাতে ৭ জনকে আটক করা হয়।

তাদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে মহামান্য আদালত প্রত্যকের ৩দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করে। এঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকে বলা বলি করছে, খাদ্য কর্মকর্তা সিএনজি যোগে নাগরবন্দর একাএকা কেন গেলেন! তার সিএনজির মধ্যে ঐ মহিলা কেন উঠলো! সিএনজি কেন থামালেন!

এতো লোকের ভিরে চিৎকার চেচামেচি কেন করলেন না! কেন বিকাশে টাকা নিয়ে দিলেন! কেনইবা থানায় মামলা করলেন! সিএনজি টি কোথায়! রিমান্ড শেষেই সব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে এমনটা আশা করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।