বগুড়ার শাজাহানপুরে চার সন্তান রেখে জামাইকে নিয়ে শাশুড়ী উধাও !!

1345
শাজাহানপুরে চার সন্তান রেখে জামাইকে নিয়ে শাশুড়ী উধাও !! ছবি-ওহাব

সুপ্রভাত বগুড়া (আবদুল ওহাব শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি): বগুড়ার শাজাহানপুরে মিনারা বেগম (৩৭) নামে এক শাশুড়ী তার জামাই রেজাউল ইসলাম (২৭) কে নিয়ে উধাও হয়েছে। শাশুড়ী মিনারা ৪ সন্তানের মা এবং জামাই এক সন্তানের জনক। এ ঘটনায় রেজাউলের শশুর মোখলেছ ও স্ত্রী রহিমা সন্তানাদী নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলেও ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেজোড়া উত্তরপাড়া গ্রামে।

রবিবার ২৫ অক্টোবর পরিবারিক সুত্রে জানাযায়, বর্তমান চার সন্তানের মা মিনারা বেগম (৩৭) এর সতেরো বছর বয়সে বিয়ে হয় শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া উত্তর পাড়ার মোখলেছুর রহমানের ছেলে রাশেদুল ইসালাম (৩৫) এর সাথে। বিয়ের দু’বছর পরেই ঘড়ে আসে কন্যা সন্তান। নাম রহিমা। অল্প বয়সে মেয়েকেও উপজেলার শাবরুল গ্রামের রেজাউল এর সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। বর্তমানে রহিমার বয়স ১৮ বছর হলেও রহিমাও এরই মধ্যে জন্ম দিয়েছে এক পুত্র সন্তান। শিশুটির বয়স এখন এক বছর।

এদিকে রহিমার স্বাামী রেজাউল গরীবের ছেলে হওয়ায় এবং মেয়ের অভাব অনটনের সংসার ঠিকমত না চলায় তা দেখভাল করার উদ্দেশ্যে শশুর রাশেদুল ইসলাম তার মেয়ের জাামাই রেজাউলকে ঘড়জামাই করে নিজ বাড়িতে রাখে। এমনিভাবে কেটে যায় কয়েকটি বছর।

সময়ের এ ¯্রােতে সকলের অজান্তে গোপনে শাশুড়ী মিনারার সাথে রেজাউলের গড়ে উঠে নিবীড় সম্পর্ক। তবে শাশুড়ী ও জামাইয়ের এ গভীর সম্পর্ক কেউ কখনও অন্য চোখে না দেখায় তাদের অন্তরঙ্গ গভীরতা দিনে দিনে প্রেম পরিনয়ে রুপ নেয় অবাধে। যা শশুর রাশেদুল কখনও বুঝতে পারেনি এবং সন্দেহের চোখেও দেখেনি।
প্রতিবেশীরা জানান, রেজাউলের শশুর এবং স্ত্রী যখন বাড়ীতে না থাকে সে সময় তাদের দেখে মনে হতনা যে শাশুড়ী ও জামাই। চলন-বলন ছিল প্রেমিক প্রেমিকার মত।

স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, আমাকে ঘড়ে রেখে সবসময় মায়ের সাথে হাসাহাসি করে। সন্তান নিয়ে রাতে আমি ঘুমিয়ে পড়লে লুকিয়ে শাশুড়ীর ঘড়ে যেতো। এনিয়ে গোপনে অনেক বলেছি। কিন্তু লজ্জায় প্রকাশ করিনি।
শশুড় রাশেদুল জানান, স্ত্রী মিনারা তার জামাই রেজাউলের সাথে যেভাবে কথাবার্তা ও আচার আচরণ করতো তা দেখে কয়েকদিন আগে সন্দেহ জন্ম নেয়। এছাড়াও প্রতিবেশী কয়েকজনে তাকে এ বিষয়ে নানা কথা কানাঘষা করতে থাকলে বিষয়টির প্রতি তখন আলাদা নজর দিতে শুরু করি।

এমনই এক পর্যায়ে কয়েকদিন আগে স্ত্রীর মিনারা জামাইয়ের সাথে অবৈধ মেলামেশায় মিলিত হলে ছেলে দেখে ফেলে এবং আমাকে জানায়। বিষয়টি নিয়ে আমি গ্রামে শালিস ডাাকার মনোস্থির করলে সেদিনই তার জামাই রেজাউলকে সাথে নিয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে ১০ বছর বয়সী মিনারার ছেলে জানায়, আমি নিজ চোখে দেখে ফেলায় তার মা মিনারা তাকে গোপনে ডেকে নিয়ে এসব কথা বাবাকে বলতে নিষেধ করে এবং কথা না শুনলে রাতে বস্তায় ভরে করতোয়া নদীতে ফেলে দেয়ার ভয় দেখায়।

এলাকাবাসি জানান, বুধবার বিকেলে জামাইকে সাথে নিয়ে মিনারা বেগম এনজিও থেকে কিস্তির টাকা উঠানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। তবে বিশ্বস্ত সুত্রে তারা জানতে পেরেছেন, পালিয়ে গিয়ে তারা অন্যত্র একসাথে বসবাস করছেন।