বগুড়ার শিবগঞ্জের দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওবাইদুল চার বছরেও পরিষদে যেতে পারেনি

114

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন অভিযোগ !

সুপ্রভাত বগুড়া (রায়হানুল ইসলাম): নির্বাচন হয়েছে; জনগনের ভোটে নির্বাচিত হবার চার পেরিয়ে গেলেও ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারেনি ইউপি সদস্য। একজন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আরেকজন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি; একজন চেয়ারম্যান অন্যজন সদস্য।

ক্ষমতার দাপট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যানের। মাঝে বলির পাঠা সাধারণ জনগন। যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের দাবি মেম্বার-চেয়ারম্যানের দ্বন্দে আমরা কেন ন্যার্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবো।

বগুড়ার শিবগঞ্জের দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওবাইদুল ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তিন বছর আগে দেয়া অভিযোগের কোন সমাধান না পেয়ে চুপ থাকলেও দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে তিনি জনগনের চাপে আর চুপ থাকতে পারছেননা উল্লেখ করে বলেছেন, এই অবহেলিত মানুষগুলোর জন্য হলেও প্রশাসনের মাধ্যমে আমার নির্বাচনী ৪টি গ্রামের মানুষের জন্য আমি আমার ন্যার্য অধিকার চাই।

এতোদিন আমি বঞ্চিত হলেও কোন কথা বলিনি; মানুষের জন্য আজ কথা বলতে দাঁড়িয়েছি। আর সেই মুহুর্তে আমাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে চেয়ারম্যানের ছেলে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। আর চেয়ারম্যান জাল স্বাক্ষরে বরাদ্দ আত্মসাত সহ সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি’র বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত ইউপি সদস্যের পরিবার।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগনের ভোটে ইউপি সদস্য হিসেবে বিজয়ী হওয়ার কয়েক মাস পরেই চেয়ারম্যান ওবাইদুল ইসলামকে পরিষদে আসতে নিষেধ করেন। মৌখিক ভাবে বলছে আজ থেকে তুই সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত)।

সেই থেকে আজ অবধি ইউপি সদস্য হিসেবে পরিষদে যেতে পানেননি ওবাইদুল ইসলাম। তার ভাষ্য, এর আগে কয়েক দফা পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে তুই আমাদের পরিষদের কেউ না। শুধু তাই নয় ; গত চার বছরে কোন প্রকার সরকারি বরাদ্দ আমার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়নি।

আমাকে না জানিয়ে স্বাক্ষর জাল করে নিজের ইচ্ছা মতো আমার বরাদ্দ আত্মসাৎ করে আসছে চেয়ারম্যান। বুধবার বেলা ১১টায় এভাবেই মনের মধ্য জমানো দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তুলে ধরলেন বগুড়ার শিবগঞ্জের দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওবাইদুল ইসলাম।

কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, রহবল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই প্রধান সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি আমাকে তার পক্ষে কাজ করতে না বলায় আমি চেয়ারম্যানের বিপক্ষের প্যানেলকে সমর্থন করি। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যানের প্যানেল পরাজিত হওয়ায় চেয়ারম্যান আমার উপর ক্ষুব্ধ হন।

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কয়েকদিন পর পরিষদে গেলে তিনি আমাকে সাসপেন্ড করেছেন বলে পরিষদ ত্যাগ করতে বলেন। এসময় তিনি বলেন, প্রতি বছর এলজিইডি থেকে ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। যা নিজ নিজ অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভাট তৈরির জন্য প্রত্যক সদস্যদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাকে একটি টাকাও এলাকার উন্নয়নের জন্য দেয়া হয়নি।

শুধু তাই নয়; ভিজিএফ থেকে শুরু করে সব ধরনের ভাতা কার্ড আমার মাধ্যমে একটিও বন্টন করেনি। এদিকে সোমবার (১১ মে) দুপুরে চেয়ারম্যানের এসব অভিযোগ সম্পর্কে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে ঐ রাতে চেয়ারম্যানের ছেলে সহ ৬/৭ জন আমার বাড়িতে এসে গালি গালাজ ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যর সহধর্মীয় রুজিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যানের কারণে পরিষদে যেতে পারে নাই। বর্তমান করোনা ভাইরাস এর কারণে এ ওয়ার্ডের অসহায় গরীব, দুঃস্থদেরকে ব্যক্তিগত ভাবে সহযোগিতা করে আসছে। গত ১২ মে রাতে চেয়ারম্যান এর ছেলে সহ তার ক্যাডার বাহিনী বাড়িতে এসে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে।

এখন আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বোয়ালমারি বাসিন্দা মকবুল, আব্দুর রশিদ, সনজু, জানান চেয়ারম্যান এর হুমকি ধামকির কারণে ইউপি সদস্য ওবাদুল ইসলাম পরিষদে যেতে না পারায় আমরা ৪ গ্রামের সাধারণ মানুষ করোনা ভাইরাস এর কারণে কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছি।

যোগাযোগ করা হলে দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই প্রধান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানান, ওবাইদুলকে পরিষদে আসতে নিষেধ করিনি। বরং সচিবের মাধ্যমে ফোন দিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। সে একজন জন প্রতিনিধি হিসাবে পরিষদে কেন আসে না তা আমার বোধগম্য নয়।

এসময় জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ঐ ইউপি সদস্যকে ছাড়াই তার যাবতীয় বরাদ্দ উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি নাকোচ করে দেন। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।