বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আস্থাভাজন অভিভাবক সাঈদ সিদ্দিকী

865
বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আস্থাভাজন অভিভাবক সাঈদ সিদ্দিকী। ছবি-সম্পাদিত

সুপ্রভাত বগুড়া (বিনোদন): বগুড়া বাংলাদেশের একটি ছোট্ট জেলা হলেও ইতিহাস,ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতির ক্রমবিকাশের দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ও সমাদ্রিত বগুড়ার ঐতিহাসিক পরিচয়। মোঘল শাসন আমল থেকেই ঐতিহাসিক বগুড়া ও বগুড়ার মহাস্থান গড়ের ইতিহাস, বেহুলা লক্ষিণদরের ঘটনাবহুল জীবনী আর নবাবী আমলের নানা ইতিহাস বগুড়ার সংস্কৃতিকে করেছে সাফল্যমন্ডিত ও অলংকৃত। শুধু তাই নয় বর্তমানে বগুড়াকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে আন্তর্জাতিক সীকৃতির কারণে এই জেলাকে বাংলাদেশের প্রাচীন সাংস্কৃতির ভান্ডার হিসাবেও আখ্যা দেয়া যেতে পারে।

প্রচীন এই শহরের পুরোনো সংস্কৃতির সাথে অধুনিক সভ্যতা ও সাংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে যে কয়জন মানুষ দিন-রাত পরিশ্রম করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন এবং বগুড়ার সাংস্কৃতিকে দেশজোড়া ও বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে নেপথ্য নায়ক হিসেবে কাজ করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ আবু সাঈদ সিদ্দিকী। তবে বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুধু সাঈদ সিদ্দিকী নামেই সর্বজন পুজনীয় ও সু-পরিচিত সাংস্কৃতিমনা এই মানুষটি।

সাঈদ সিদ্দিকী বগুড়া জেলার শেরপুর-চান্দাইকোনা’র ভবানীপুর এলাকায় বেলগাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশর এবং যৌবনের কিছু সময় কেটেছে গ্রামীন প্রকৃতিতে। ছোট বেলা থেকেই সাংস্কৃতিক বিষয়ের প্রতি ছিলো তার ভীষণ দুর্বলতা। তাই, গ্রামের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেন। ১৯৭১ সালে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত এবং ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করেছেন।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি যোগদান করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। কিন্তু, এই গর্বিত পেশায় তিনি বেশিদিন নিজেকে ধরে রাখতে পারেন নি। তাই, চাকুরী ছেড়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। এরপর ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্য নিয়েই পাড়ি জমান বগুড়া শহরে। সেখানে বগুড়া থিয়েটারের বর্তমান মেধাবী ও গুণী অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনের সাথে তার পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে বগুড়া থিয়েটারের বিভিন্ন কর্মকান্ড, নাটক, পালাগান, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম সাংস্কৃতিপ্রেমী এই মানুষটাকে ভীষণভাবে টানে। এক পর্যায়ে শাহাদৎ হোসেনের হাত ধরেই তিনি বগুড়া থিয়েটারে সম্পৃক্ত হয়ে সদস্য পদ লাভ করেন।

ধীরে ধীরে তার মেধাবী পদচারণা আর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা তাকে বগুড়া থিয়েটার তথা বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে রুপদান করেছে। সেই ১৯৯৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বগুড়ার সাংস্কৃতিক বিকাশে তিনি নিজেকে সরাসরি সংযুক্ত রেখেছেন। তার হাতেই তৈরী হয়েছে অসংখ্য মেধাবী সাংস্কৃতি কর্মী। যারা শুধু বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গন নয়, দেশে-বিদেশেও সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

এর মাঝে তিনি দুই দুইবার বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরপর ২ বার তিনি জোটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত উক্ত পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এছাড়াও তিনি বগুড়ার সুনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন “রুপান্তর সাংস্কৃতিক একাডেমী’র একজন উপদেষ্টা।

শুধু তাই নয় বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য বাউল সংগীতের প্রতি তার অসামান্য ভালোবাসা তাকে বগুড়ার বাউল শিল্পীদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার বিষয় এবং তাদের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। ফলে বাউলদের প্রতি তার অসম্ভব ভালোবাসার স্বাক্ষর হিসাবে তিনি গড়ে তোলেন “বগুড়া বাউল গোষ্ঠি”। বর্তমানে তিনি ”বগুড়া বাউল গোষ্ঠি”র সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অধিকাংশ মানুষ চান আগামী জোটের নির্বাচনে বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি হয়ে বগুড়ার সকল সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভাগ্যন্নয়নে তিনি কাজ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তাই সবার ভালোবাসা নিয়েই তিনি আগামীতে জোটের সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বগুড়ার সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাশে থাকতে চান।

নতুন সাংস্কৃতি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। তাই নিজেকে সৎ, যোগ্য এবং দেশ প্রেমিক হিসাবে গড়ে তুলতে হলে এবং দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে ভালোবাসতে হলে সাংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। দেশের প্রকৃত ইতিহাস দর্শনে সাংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তরুণরা নিজেদেরকে দেশের সুনাগনিক হিসাবে গড়ে তুলবে এবং সোনার বাংলার সোনার সন্তান হিসাবে গড়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন বগুড়ার সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সাঈদ সিদ্দিকী।