বগুড়ায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে মার্কেট বন্ধ ঘোষনা, চাষী বাজার স্থানান্তর

163

সুপ্রভাত বগুড়া (আবদুল ওহাব বগুড়া): বগুড়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সকল মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে এবং জেলার বৃহত্তম চাষী বাজারটি স্থানান্তর করা হয়েছে।

আজ শনিবার ৩০ মে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বগুড়া চেম্বারের সহ-সভাপতি মাফুজুল ইসলাম রাজ এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বগুড়ায় দিনদিন করোনাভাইরাস বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার ৩১ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত জেলার সকল মার্কেট বিপণি বিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং ওষুধের দোকান খোলা থাকবে।

সভায় ঈদ পরবর্তী বগুড়ায় করোনা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা, কাঁচাবাজার বিকেন্দ্রি করণ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রস্তাাবের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সাতদিন মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

আর ব্যবসায়ীরা জানান, কর্মচারী ও ক্রেতাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ঈদের আগে সকল মার্কেট ও বিপনী বিতান খোলা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বগুড়ায় করোনাভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ রাখা প্রয়োজন মনে করছে।

এদিকে আজ জেলার বৃহত্তম চাষী বাজারও অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বাজার কমিটি কয়েক কিলোমিটার দূরে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানান্তর করেছে বলে জানিয়েছেন, সেখানকার আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়ত চাষি বাজার। এখানে ১৭টি মাছের আড়ত আছে। এসব আড়তে প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও কর্মচারির আনাগোনা। চাষি বাজারের কয়েকজন আড়ৎদার বলেন, এ বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকেই কয়েক হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় হয়।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে মাছ বিক্রি করতে আসেন। কেনাবেচা চলে সারাদিন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে এখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে বেচাকেনা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে বাজার বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়ে আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

কিন্তু প্রশাসন বাজার বন্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। কয়েকদিনে বাজারের ৩১ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি অনুধাবন করে সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বাজারটি বন্ধ না করে স্থানান্তর করা হয়েছে।