বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম এর মৃত্যু !

135
স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আমিনুল ইসলাম (৫৭) আর নেই। তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আইসিইউ-এ মৃত্যু বরণ করেন। ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন। শনিবার বিকালে তার জন্ম স্থান পাবনা জেলার হেমায়েতপুরে দাফন সম্পন্ন হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন, গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। সম্প্রতি তিনি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ‘নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর/সংস্থা’ কাটাগরিতে “শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০১৯-২০” অর্জন করেন।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া’র সহকারী পরিচালক নুশরাত জাহান জানান, মহাপরিচালক মহােদয়ের ২৩ জুন তার কোভিড পজেটিভ সনাক্ত হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৯ জুন তাকে রাজশাহী মেডিকেলের আইসিইউ-এ নেয়া হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষনা করে।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আব্দুস সামাদ জানান, সদ্য প্রয়াত পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আমিনুল ইসলাম কে তার গ্রামের বাড়ী পাবনা জেলার হেমায়েতপুরে শনিবার বিকেলে দাফন করা হবে। আরডিএ বগুড়ার সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) তে ২০১৯ সালের বগুড়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম যোগদান করেন। যোগদানের স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারের নীতি ও নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবাায়নে নেতৃত্ব প্রদান করেন। এর মধ্যে উলে­খযোগ্য কার্যক্রম হলো- নির্বাচনী অঙ্গীকার “আমার গ্রাম-আমার শহর” বিনির্মাণে নীতি নির্ধারণী গবেষণা পরিচালনা করা।
আমিনুল ইসলাম ৮ম বিসিএস এর মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর যোগদান করেন। সুদীর্ঘ চাকুরি জীবনে তিনি সহকারি কমিশনার, সহকারি কমিশনার (ভুমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকারের পরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে মাঠ প্রশাসনে এবং উপ-সচিব হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে তিন বছরেরও অধিককাল অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডেও সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সামাজিক আন্দোলন স্কাউটিং কার্যক্রমের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তিনি স্কাউটস এর একজন লিডার ট্রেনার। তিনি বিগত পাঁচ বছর যাবত বাংলাদেশ স্কাউট রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি স্কাউটসের ন্যাশনাল সার্টিফিকেট এ্যাওয়ার্ড, মেডেল অব মেরিট, বার টু দ্যা মেডেল, প্রধান জাতীয় কমিশনার এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন এবং রৌপ্য ইলিশ এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।