বগুড়ায় করোনা রিপোর্টে অনিয়ম ও স্বজন-প্রীতির অভিযোগ; ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ !!

250
বগুড়ায় করোনা রিপোর্ট দেরিতে আসায় বাড়ছে সংক্রমণ ! ছবি-আবু সাঈদ হেলাল

রিপোর্ট দেরিতে আসায় অধিক সংক্রমণের আশঙ্কা !

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক বিপর্যয় করোনার মহামারিতে অস্থির বিশ্ব, এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোন প্রতিষেধক তৈরী না হওয়ায় যেন সংক্রমণ আর মৃত্যু কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা। বর্তমানে বাংলাদেশেও সংক্রমণের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জোন ভিত্তিক লকডাউন কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি ভাবে নেয়া উদ্যোগকে সফল করতে মাঠে কাজ করছেন প্রসাশনের একাধিক ইউনিট।

এদিকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশ দার বগুড়া হঠাৎ করেই যেন করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে। জেলায় অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সংক্রমণ। দিন দিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তাছাড়া, করোনার রিপোর্ট পেতে অস্বাভাবিক দেরি হবার কারণে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ছে ব্যাপক হারে সংক্রমণের আশঙ্কা।

কারণ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েই অনেকে কর্মস্থলে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেদারসে কাজ করছেন। এর পর যখন ১০-১৫ দিন পরে রিপোর্ট আসছে পজেটিভ ! তখন সহকর্মীরাও আতংকিত হয়ে পড়ছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নমুনা দেবার পরে ১২ থেকে ১৫ দিনেও মিলছেনা টেস্ট রিপোর্ট। আবার অনেকে একই সাথে নমুনা দেবার পর কারো রিপোর্ট আসছে ২-৩ দিন পরেই, কারো রিপোর্ট পেতে সপ্তাহ গড়িয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় নমুনা দেয়া ব্যক্তির নাম পর্যন্ত খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা তালিকাতে।

জানা গেছে, গত ১৬ জুন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে নমুনা দিতে আসা দৈনিক করতোয়ার জেনারেল শাখার ১৫-১৬জন, সদরের অন্যান্য এলাকা থেকে আগত পুরুষ ও মহিলা মিলে ১০-১২জন এবং শহর এলাকার ৫-৬জন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ করোনা টেষ্টের জন্য নমুনা দিতে আসেন।

সেখানে নমুনা সংগ্রহকারী কর্মীগণ বলেন, কিট সংকট আছে যাদের উপস্বর্গ আছে শুধু তারা নমুনা দেন বাকি সবাই এখানে ভীর না করে চলে যান। ওই ব্যক্তি তখন বলেন, আমি গত কয়েকদিন আগে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে এসেছি তাই রেজিষ্ট্রেশন করেই টেস্ট করতে এসেছি। অবশ্য পরে ডাক্তার মিশু এসে উপস্থিত হলে সবারই করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এখানে প্রশ্ন হলো, যারা উপসর্গ ছাড়া করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন তাদের তাহলে কি হবে ? আর ফরম পুরণ করার পরেও যদি উপসর্গ না থাকায় পরীক্ষা করা না হয় তাহলে নিরবে সংক্রমণ ছড়ানো ব্যক্তি চিহ্নিত হবে কি করে ? এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারি আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে বগুড়ার করোনা পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট প্রদানে স্বজনপ্রিতির অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন যারা সেবা কর্মীদের পরিচিত বা কাছের মানুষ তারা ২-১ দিনের মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছেন রিপোর্ট অথচ দিনের পর দিন ঘুরেও অনেকেই পাচ্ছেন না রিপোর্ট এমন কি কেউ সরাসরি যোগাযোগ করলেও অফিসের এক কর্মকর্তা অরেকজনের কাছে পাঠাচ্ছেন কিন্তু, পাওয়া যাচ্ছেনা রিপোর্ট।

গতকাল ২৫জুন ২০২০ইং, বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, যারা ১৬জুন নমুনা দিয়েছিলেন তাদের কারো কারো রিপোর্ট আছে ২২জুনের ফলাফলের মধ্যে, আবার কারো রিপোর্ট আছে ২৪ জুনের ফলাফলে আবার কারো নামই খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ১৪জুন নমুনা দিয়েছেন এমন ব্যক্তিদেরও রিপোর্ট খুজতে দেখা গেছে। কন্ট্রোল রুমের সেবা কর্মীদের এমন এলোমেলো তালিকার কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা কোন কিছু বলতে পারবেন না জানিয়ে হেড ক্লার্ক এর কাছে পাঠিয়ে দেন।

এমন সমস্যার বিষয়ে সেখানকার হেড ক্লার্ক শামীমা আক্তারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততা ও বিরক্ত নিয়ে বলেন: ‘এই বিষয়গুলি গোপনীয়, কন্ট্রোল রুমে সব লিষ্ট দেয়া আছে সেখানে নাম থাকলে আছে না থাকলে আমার কিছু বলার নাই, আমার বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে যে যা ভাবে ভাবুক, যার যা বলার থাকে বলুক, আমি এখন এগুলো বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’

এদিকে গতকাল ২৫ জুন বিকেলে ১৬ জুনে নমুনা প্রদানকারী দৈনিক করতোয়ার জেনারেল শাখার টেলিফোন অপারেটার, রাম গোপাল ও টেলিফোন অপারেটার বাপ্পী দুজনেরই রিপোর্ট করোনা পজেটিভ জানা গেছে, কিন্তু, নমুনা দেবার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত তারা নিয়মিত অফিস করেছেন।

অথচ করোনা পরীক্ষার নমুনা দেবার পরে রিপোর্ট আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাধ্যতামুলক সামাজিক দুরত্ব বজায় অথবা কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণের ভয়াবহতা ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

গকতাল রাতে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনের সাথে মেবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফলাফলের বিষয়ে জানান, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৫৫০ টি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে কিন্তু, ১ দিনে পরীক্ষা করা সম্ভব হয় মাত্র ১৮৮টি, তাই প্রতিদিনই নমুনা উদ্ধৃত্ত থাকছে সেই কারণে ফলাফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

নমুনা পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, স্বজনপ্রীতির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বোঝার সুবিধার্থে নামের প্রথম অক্ষর ব্যবহার করে কিছু নমুনা পাঠানো হয় যেমন: ডাক্তার-নার্স বা জরুরী সেবার কাজে নিয়জিত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

তবে এখানে কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি হচ্ছেনা। নমুনা ল্যাবে পাঠানোর পরে সেখানে কোন নেতা বা বিশেষ ব্যক্তি অথবা পরিচিতি উল্ল্যেখ থাকেনা। কারণ, করোনার ফলাফল সরাসরি পিসিআর ল্যাব থেকে আসে এখানে শুধু কোড নম্বর ও মোবাইল নম্বর উল্ল্যেখ থাকে তাই ইচ্ছা করে কারো রিপোর্ট আগে পরে করার কোন সুযোগ নেই।