বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে নব্যজেএমবির চার জন অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ আটক !

66
বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে নব্যজেএমবির চার জন অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ আটক। ছবি-খাজা রতন

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অভিযানে একটি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড ৭.৬৫ পিস্তলের গুলি, একটি দেশি তৈরি ওয়ান শুটার গান, দুইটি কার্তুজ, ৩টি অত্যাধুনিক বার্মিজ চাকু, ১টি চাপাতি, ১ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য (পটাশিয়াম ক্লোরেট), ২টি লাল টেপ, ৪টি ব্যাটারি, কিছু পরিমাণ তারসহ ৪ নব্য জেএমবি’র সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

এসময় জঙ্গিরা নাশকতার উদ্দ্যেশ্যে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার চণ্ডিহারা এলাকার একটি স্থানে সমবেত হতে যাচ্ছে এমন নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে রাজশাহী রেঞ্জর ডিআইজি মোঃ আব্দুল বাতেন বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশনায় এবং বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভূঞার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুলিশ হেড কোয়ার্টার সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গোয়েন্দা শাখার একটা চৌকস টিম ৭ নভেম্বর রাত পোনে ২টার দিকে বগুড়া রংপুর মহাসড়কের চণ্ডিহারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে উল্লেখিত অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো মোঃ তানভীর আহম্মেদ আবু ইব্রাহিম (২৫) সাংগঠনিক পদবি, নব্য জেএমবি’র আইটি শাখার সদস্য, পিতাঃ মোহাম্মদ আলী সাং তরশ্রীরামপুর, থানা মুকসুদপুর জেলা গোপালগঞ্জ, তার বর্তমান ঠিকানা বাড়ি ২, রোড # ৮ ব্লক এল, দক্ষিণ বনশ্রী, খিলগাঁও, ঢাকা, মোঃ জাকারিয়া জামিল (৩১) সাংগঠনিক পদবি মিডিয়া শাখার প্রধান, পিতাঃ খন্দকার গোলাম সারোয়ার, সাং জগতপোড়া, থানা ভুয়াপুর জেলা টাঙ্গাইল বর্তমান ঠিকানা ৫৮/সি পশ্চিম রাজাবাজার, শেরে বাংলানগর ঢাকা, মোঃ আতিকুর রহমান (২৮) সক্রিয় সদস্য পিতাঃ মোঃ আব্দুর রহমান, সাং চকশ্যামরামপুর, থানা ও জেলা ময়মনসিংহ, মোঃ আবু সাঈদ, সক্রিয় সদস্য পিতাঃ মোঃ আব্দুল হাকিম, সাং চকশ্যামরামপুর, থানা ও জেলা ময়মনসিংহ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের নব্য জেএমবি’র দায়িত্বশীল পদধারী হিসেবে নিজেদের স্বীকার করে এবং এখানে মিটিং করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করতে চাচ্ছিল বলে জানিয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তানভীর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিভাগের ছাত্র। এ বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে আশুলিয়াতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জঙ্গি পুস্তক, ইলেকট্রনিক ও ড্রোন তৈরির সরঞ্জামসহ তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সে ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সে একজন পলাতক আসামি এবং ঘটনার পর থেকে সে পলাতক ছিল। সে ড্রোন তৈরির মাধ্যমে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে জানা গেছে। আরেক আসামি জাকারিয়া জামিল নব্য জেএমবি’র মিডিয়া শাখার প্রধান দায়িত্বশীল। জঙ্গি সংক্রান্ত অন লাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনাগুলোকে সে আরবি থেকে বাংলায় অনুবাদ করে প্রচার করত। জামিলও আশুলিয়ার মামলার পলাতক আসামি ছিল।

তৃতীয় আসামি আতিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র ছিল। সে নতুন সদস্য এবং অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল। সর্বশেষ ব্যক্তি যুদ্ধ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়ে ৫০টির মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা বানানো সম্ভব ছিল।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে সাংবাদিকদের প্রেস বিফিং-এ জানান ডিআইজি আব্দুল বাতেন।