বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আমফান !

235

সুপ্রভাত বগুড়া ডেস্ক: বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (মঙ্গল-বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের খুব কাছ অতিক্রম করে এটি বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অ্যাকুওয়েদারের বিশেষ বার্তায় বলা হচ্ছে, ঝড়টি খুব মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় পৌঁছতে পারে।

যার গতি হতে পারে ক্যাটাগরি ৪ হ্যারিকেনের সমতুল্য। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণয়মান অবস্থায় রয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। ক্রমশ সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসছে।

এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, আগামী মঙ্গলবার দিনভর  বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে তাণ্ডব চালাতে পারে আমফান। আরেক পূর্বাভাসের বলা হয়েছে: ঘূর্ণিঝড় ফণি যেখানে ভূভাগে প্রবেশ করেছিল ঠিক সেখানেই আঘাত হানতে চলেছে আমফান।

যার ফলে ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২০ মে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে যাবে ঝড়টি। এছাড়া বাকি ২টি পূর্বাভাস অনুসারে আমফান আঘাত হানবে বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে মায়ানমারের রেঙ্গুনের মধ্যে আরাকান প্রদেশের কোনও অংশে।

অ্যাকুওয়েদারের আন্তর্জাতিক আবহাওয়াবিদ জেসন নিকোলস বলছেন, “বঙ্গোপসাগরে ক্রান্তীয় নিম্ন অঞ্চলের চারপাশে একটি সুস্পষ্ট  নিম্ন সঞ্চালন দেখা যাচ্ছে, যেটি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে শুরু করেছে,” আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এটি একটি বিপজ্জনক ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে অ্যাকুওয়েদারের বিশেষ বার্তায় অ্যাকুওয়েদার আবহাওয়াবিদ ড্যাভ হুক মনে করছেন যে, ঝড়টি খুব মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় পৌঁছতে পারে। তার মতে “এটি চরম তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় পৌঁছতে পারে, যার গতি হতে পারে ক্যাটাগরি ৪ হ্যারিকেনের সমতুল্য।”

যা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশকে প্রাণঘাতী প্রভাবের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে ফেলবে বলে আশংকা ওই আবহাওয়াবিদের। পূর্ব-মধ্য ভারত থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে বাসিন্দাদের ঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় অ্যাকুওয়েদারের ওই আবহাওয়া বার্তায়। 

ঝড়ের শক্তি বাড়ার সাথে সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগর বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলেও ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়। আমফান এবছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড়।