বিএনপি ভোট বর্জন করলেও বগুড়ায় আদর্শ বিলিয়ে দিয়ে ভোট দিলেন বিএনপির পদে থাকা জনপ্রতিনিধিরা !!! 

108
বিএনপি ভোট বর্জন করলেও বগুড়ায় আদর্শ বিলিয়ে দিয়ে ভোট দিলেন বিএনপির পদে থাকা জনপ্রতিনিধিরা !!! 
স্টাফ রিপোর্টারঃ সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয়ভাবে বর্জন করলেও বগুড়ায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তবে দলের শাস্তির ভয়ে অনেকেই ভোট দিলেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয় ভোট দিয়েছেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত  ভোটাররাও। নির্বাচনে অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধেই টাকা ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই টাকা ছড়ানোর কারণেই অনেকেই দলের কথা না ভেবে ভোটকেন্দ্রে গেছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মকবুল হোসেন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বগুড়া শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান আকন্দ। বেসরকারি ফলাফলে জানা যায়, ডাঃ মকবুল হোসেন আনারস প্রতীকে ৮৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে আবদুল মান্নান আকন্দ কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ৭২১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
বিএনপির যেসব জনপ্রতিনিধিরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা হয় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে অথবা আওয়ামী লীগ এর বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলা যায়। দলীয়ভাবে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলটি কোনো প্রার্থী দেয়নি। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই নির্বাচন বয়কটের কথা জানিয়ে দলীয় নেতাদের সতর্ক করা হয়। কিন্তু দলীয় নির্দেশ লঙ্ঘন করে অনেক নেতাই ভোটের মাঠে সরব ছিলেন। বিএনপির কয়েক নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। যেকারণে দলের পক্ষ থেকে তাদেরকে শোকজও করা হয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএসএম জাকির হোসেন বলেন, বগুড়া সদর উপজেলা ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ১৬২ জন। এর মধ্যে ইভিএমে ভোট প্রদান করেছেন ১৫৪ জন ভোটার। অনুপস্থিত আট ভোটারের মধ্যে একজন হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। বাকি সাতজন ভোট দিতে আসেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যের সংখ্যা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি।
ভোটের দিন ভোট দিতে দেখা যায়, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সদ্য গঠিত নির্বাহী কমিটির সদস্য, নিশিন্দারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও নিশিন্দারা ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম সরকার, সদ্য গঠিত সদর উপজেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও নিশিন্দারা ইউপি সদস্য মোজাফফর হোসেন, জামায়াত নেতা ও রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোখলেছার রহমান সহ আরো অনেককেই।
বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে বর্জন করেছে বিএনপি। নেতা-কর্মীদের প্রতি এই নির্বাচন বয়কট করার নির্দেশনা দেওয়া ছিল। নির্দেশনা লঙ্ঘন করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় চারজনকে আগেই শোকজ করা হয়। দলের পদে থেকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়া শোভনীয় হয়নি। দলের পদধারী কোন কোন নেতা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন, খোঁজ নিয়ে দলীয় সভায় বিষয়টি তোলা হবে। এসব নেতার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার সিদ্ধান্ত দল নিবে।