বিশ্বের সকল শক্তিই আজ করোনা ভাইরাসের কাছে পর্যদস্ত হয়ে পড়েছে : প্রধানমন্ত্রী

72

সুপ্রভাত বগুড়া (জাতীয়): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের সকল শক্তিই আজ করোনা ভাইরাসের কাছে পর্যদস্ত হয়ে পড়েছে। তবে মানুষের ক্ষতি হলেও এতে লাভবান হয়েছে প্রকৃতি। আজ (বৃহস্পতিবার) গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫০ লাখ হতদ‌রিদ্র ও কর্মহীন প‌রিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

এ সময় তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে করোনাভাইরাসে যেভাবে আক্রান্ত এবং মারা যাচ্ছে তার তুলনায় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মারা যাওয়া মানুষের পরিবারের গভীর সমবেদনাও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোনদের সহযোগিতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশই এ অবস্থায় এত সহজে কেউ ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে অগ্রগতি থেমে গিয়েছিল। এরপর আমরা ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর আবার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি শুরু হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দায়িত্বভার যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়েছিলেন তখন কোনো সঞ্চয় ছিল না, ব্যাংকে কোনো জামানতও ছিল না।

বঙ্গবন্ধু মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন। এমন কিছু ছিল না, যা রিলিফে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশে তখন মঙ্গা থাকে না, দরিদ্র থাকে না, এটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। প্রবৃদ্ধি ৮.১ অর্জন করেছিলাম।

আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা যখন আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এমন সময় এমন একটি অদৃশ্য শক্তির আঘাত, যার ফলে সমগ্র বিশ্ব একেবারে থমকে গেছে। সারা বিশ্ব অর্থনৈতিকভাবে আক্রান্ত।’ ‘পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। এই যে একটি অদৃশ্য শক্তির হঠাৎ আক্রমণ ও এর ফলে কিন্তু সবাই বিপর্যস্ত। আমাদের ভূখণ্ড ছোট কিন্তু জনসংখ্যা বেশি ।তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনীতি সচল রাখা উচিত।

এ জন্য আমাদের রয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। অন্যান্য দেশে যেভাবে মৃত্যু কিংবা আতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে এবং মারা গেছেন এর তুলনায় আমরা কিন্তু অনেক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছি’, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনে প্রয়োজনটা অনেক বেশি। মানুষদের ক্ষুধার জ্বালাটা কিন্তু আমরা বুঝি। এ জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এমন একটি অদৃশ্য শক্তি মোকাবিলা কিন্তু কোনো দেশই পারছে না। কত শক্তিশালী দেশকে আমরা দেখেছি, এই করোনাভাইরাস শক্তির কাছে সারেন্ডার করতে হচ্ছে। ‘লাভ হয়েছে প্রকৃতির। জলবায়ুর কারণে পরিবেশ-প্রতিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। প্রকৃতি কিন্তু তার আপন গতিতে ফিরে যাচ্ছে। এটি একটি অদ্ভুত ব্যাপার, এ ধরনের ঘটনা কিন্তু পৃথিবীতে আর কখনও ঘটেনি। অনেক মহামারির কাহিনি জানি, দুর্ভিক্ষের কাহিনি জানি। কিন্তু এবারের বিষয়টা ভিন্ন’, বলেন শেখ হাসিনা।