ব্যবসায়ীদের কব্জায় বাজার! দেখবে কে ?

54
ব্যবসায়ীদের কব্জায় বাজার! দেখবে কে ? ছবি-ওহাব

সুপ্রভাত বগুড়া (আবদুল ওহাব শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি): প্রতিদিনই বাড়ছে সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। মাস দু-এক ধরে কাঁচা মরিচ, পিঁয়াজ ও শাকসবজির দাম অত্যাধিক চড়া। এরই মাঝে রেকর্ড করেছে আলুর দাম। ২০ টাকা কেজি দরের আলু আজও ৫০ টাকা। প্রতিটি সবজির দাম এখন আকাশচুম্বি। ৫০-৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। লাগামহীন দামে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। একবার পণ্যের দাম বাড়লে আর কমার লক্ষণ দেখা যায় না। দাম নির্ধারণ, বাজার মনিটরিং কোনো কিছুতেই লাভ হচ্ছে না।

বাজার পর্যবেক্ষণে সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, আলুর উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো সংকট নেই। সে হিসেবে খুচরা বাজারে ৩০ টাকার বেশি দাম হওয়ার কথা নয়। হুজুগে মাঝে মধ্যেই একটি করে সবজির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি।

বগুড়া শাজাহানপুরের দুবলাগাড়ী, নয়মাইল ও সুলতানগঞ্জ হাট ঘুরে দেখাগেছে, কাঁচা মরিচ পাইকারি বাজারে ৮০ টাকা কেজি আর খুচরা বাজারে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দেশি পিঁয়াজের দাম এখনো ৮০ টাকা। বেগুন পাইকারী ৩০ টাকা খুচরা ৬০ টাকা কেজি। পটল পাইকারি ৩০ টাকা খুচরা ৬০ টাকা কেজি। যে কোন শাক পাইকারি ২০-২৫ টাকা খুচরা ৪০-৫০ টাকা কেজি।

কপি পাইকারি ৪০-৫০ খুচরা ১০০ টাকা কেজি। নিত্যপণ্যের অসহনীয় দর সাধারণ ক্রেতাদের বিশেষ করে করোনায় আয় কমে যাওয়া মানুষজনকে এখন বেশি ভোগান্তিতে ফেলেছে। কম আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।  বাজারগুলো ঘুরে দেখাযায়, শাকসবজি ও তরি-তরকারির আমদানী এখন প্রচুর। তবু দাম কমছেনা কিছুতেই। জানাযায়, কৃষক পর্যায়ের লোকজন এখন আর কেউ খুচরা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে আসতে পারে না। কারন- তারা বাজারে আসতেই মধ্যসত্বভোগী দোকানীরা কাড়াকাড়ি করে তাদের পণ্য কিনে নেয়।

এরপর দাম হাকিয়ে উচ্চদামে বিক্রি করে। শুধু তাই নয়, দাম যাই হোক, পাইকাড়ী বাজারেও তারা জেদাজেদী করে পণ্য ক্রয় করে। এরপর খুচরা দর আকাশচুম্বি হারে বিক্রি করে এসব মধ্যসত্ব ভোগীরা। তাদের অতি মুনাফা লোভ বর্তমানে চরম আকার ধারন করেছে। বেড়েই চলেছে তাদের দৌড়াত্ব। তথাপি বিষয়টি দেখেও দেখছেনা কেহই। আর এসব মধ্যসত্ব ভোগীদের নিয়ন্ত্রনের জন্য উচ্চ মুল্যে ব্যবসায়িক লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারন জনগন।

দুবলাগারীতে বাজার করতে আসা চুপিনগরের এরফান আলী জানান, এতো দামে বাজার করার মত আয় রোজগার তার নেই। তাই তরকারির পরিবর্তে মরিচ কিনতে গিয়েও হিমশিম খেতে হয়েছে। খোটাপাড়া গ্রামের মামুন মিয়া জানান, আলু বেগুন কিনতেই ১২০ টাকা শেষ। বাজার করতে এনেছি ২০০ টাকা। এখন বাকি ৮০ টাকা দিয়ে মাছ, মরিচ, পেয়াজ ও ছোট ছেলের মিঠাই নিবো কি করে ভেবে পাচ্ছিনা। মাথা এখন ঘুড়তেছে।
আর তরকারি দোকানদার সহিদুল জানান, এখন ব্যাবসা ভাল হচ্ছে। খেয়ে পড়েও টাকা জমাতে পারি।

বাজারের ক্রেতারা জানান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তারা কি শুধু প্রকল্পের হিসেব করার জন্য আছেন ? জনগনের এসব দুঃখ দুর্দশা দেখবে কে ? আলুর ষ্টোর গুলোতে বিপুল পরিমান আলুর মজুদ দেখা গেলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনা। মজুদদার ও মধ্যসত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের বাজারে চরম মুনাফাবাজি চলছে।

এর ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য খেটে খাওয়া মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার পরও আলুর দামে লাগাম লাগানো যায়নি। একদিকে করোনা মহামারীতে জনগণের আর্থিক অবস্থা শোচনীয়, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। ^ কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনগনের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।