‘ভাই মাস্ক নেই কেন? মাস্ক পড়ুন;নিজে বাঁচুন এবং অন্যকে বাঁচান’ : দৌলত আলী কবিরাজ

73
‘ভাই মাস্ক নেই কেন? মাস্ক পড়ুন। মরণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে নিজে বাঁচুন এবং অন্যকে বাঁচান।’ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এভাবেই নিজ উদ্যোগে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন মো. দৌলত আলী কবিরাজ। ছবি-বুলবুল

সুপ্রভাত বগুড়া (বুলবুুল আহম্মেদ ( বুলু) (নওগাঁ)বদলগাঁছী প্রতিনিধি):  ‘ভাই মাস্ক নেই কেন? মাস্ক পড়ুন। মরণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে নিজে বাঁচুন এবং অন্যকে বাঁচান।’ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এভাবেই নিজ উদ্যোগে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন মো. দৌলত আলী কবিরাজ। সবার কাছে বিরু কবিরাজ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বিরু মিঠাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

মিঠাপুর বাজারে পান-সিগারেটের দোকান করে সংসার চলে তার। দিন এনে দিন খেয়ে কোনো রকমে চলে তার সংসার। সংসারে মা ছাড়া কেউ নেই বিরুর। মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি উপজেলায় লকডাউন শুরু হয়। তারপর থেকেই জনসাধারণকে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন বিরু। মায়ের জমানো টাকা নিয়ে তিন হাজার ২০০ টাকায় কিনেছেন একটা হ্যান্ডমাইক। সেই হ্যান্ডমাইক নিয়ে উপজেলার প্রতিটি বাজার ও জনবহুল এলাকা ঘুরে ঘুরে জনগণকে সচেতন করে চলেছেন।

প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপর ১২ টা পর্যন্ত বদলগাছী চৌরাস্তার মোড়, ১২ টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত উপজেলা চত্ত্বর। দুপুরের পর থেকে উপজেলায় যেদিন যেখানে হাট সেদিন সেখানে চলে যান বিরু। প্রখর রোদে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। পথচারী, মটরসাইকেল আরোহী, ভ্যানযাত্রী, বাসযাত্রী, ট্রাক ড্রাইভার, দোকানী, ক্রেতা সবাইকে মাস্ক পড়তেই হবে। মাস্ক ছাড়া কেউই তার সামনে দিয়ে যেতে পারবে না।

দৌলত আলী কবিরাজ বিরু জানান, একটা অদৃশ্য ভাইরাসের কারণে মানুষ মারা যাবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আর সচেতনতাই যেখানে ভাইরাস মোকাবেলার একমাত্র উপায় সেখানে মানুষকে বাঁচাতে এই কাজ করা তো আমার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক। তাঁর আদর্শের দলের একজন প্রচার সম্পাদক হিসেবে মানুষকে বাঁচাতে সচেতনতার প্রচার প্রচারণা চালানো আমার নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরো জানান, করোনা ভাইরাসের শুরু থেকেই আমি এই কাজ করে আসছি। প্রখর রোদে প্রচণ্ড গরমে আমার শরীর সেদ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপরও আমি কাজ করে যাচ্ছি শুধু একটা আশায় মানুষ যাতে ভালো থাকে। এখন মানুষ দূর থেকে আমাকে দেখলেই মুখে মাস্ক পড়ে নেয়।

তখন আমি খুব আনন্দ পাই। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আসা লোকজন জানান, শুরুর দিকে প্রশাসন খুব কড়াকড়িভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণসহ অপ্রয়োজনে বাহিরে ঘোড়াঘুরি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। কিন্তু ঈদের পর থেকে সচেতনামূলক কার্যক্রমে প্রশাসনকে তেমন একটা দেখা যায় না।

বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন বাজার হাটে বিরুই এখন অকুতোভয় সৈনিকের মতো নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে করোনা সচেতনতায় কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবু তাহির বলেন, বিরু করোনা ভাইরাস সচেতনতায় শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে, যেটা খুবই প্রশংসনীয়। বিরুকে আমরা বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতে আরো অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।