ভাতা প্রদানের নামে নিজের লেখা বই বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ডিপিএড ঝিনাইদহ পিটিআই এর সুপার

197

সুপ্রভাত বগুড়া (রাসেল আহাম্মেদ ,ঝিনাইদহ): দেশব্যাপি মহামারী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেই নিজের লেখা বই বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে জেলার ৬ টি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদানের নামে ঝিনাইদহ পিটিআই এ একত্রিত করলেন প্রায় ২০০ শত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে। যারা ২০১৯-২০শিক্ষাবর্ষের ডি পিএড শিক্ষার্থী।

সরকার ঘোষিত লোক সমাগম না করার নির্দেশনা অমান্যকরে গত ০৭.০৫.২০২০ তারিখে ঝিনাইদহ পিটিআই এর সুপার আতিয়ার রহমান প্রায় ২ শত ডিপিএড শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদানের নামে ডেকে এনে নিজের লেখা “বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কিছু ভাবনা ও করণীয়” নামক বই ১০০/-থেকে ১২০/- টাকা করে বিক্রয় করেন।

উল্লেখ্য লোক সমাগম এড়ানোর উদ্দেশ্যে আগামী ৩১.০৫.২০২০ তারিখ পর্যন্ত সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এবিষয়ে কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ডিপিএড শিক্ষার্থী জানান গণপরিবহন বন্ধের এই সময়ে তাদের প্রশিক্ষণ ভাতা না দিলেও হতো, ভাতা গ্রহণের জন্য জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পিটিআই এ আসতে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে এই পিটিআই সুপার আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ অজ্ঞাত কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। ৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ পিটিআই হতে বেশ কয়েক জন পিটিআই ইন্সট্রাক্টর বদলি হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়া সত্বেও অজ্ঞাত কারণে তিনি প্রায় ৫ বছর ঝিনাইদহ পিটিআই এ কর্মরত আছেন।

এবিষয়ে পিটিআই সুপার আতিয়ার রহমানএর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিপিএড শিক্ষার্থীদের চাপে পড়েই তিনি তাদের প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদানে বাধ্য হয়েছেন এবং তারা সবাই স্বেচ্ছায় তার লেখা বই টি কিনেছেন কাউকে তিনি চাপ প্রয়োগ করেননি।

এছাড়া তিনি খুলনা বিভাগের সেরা পিটিআই সুপার নির্বাচিত হয়েছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পিটিআই সুপার নির্বাচিত হওয়ার তালিকায় তার নাম থাকায় বিভিন্ন কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

লোক সমাগমের বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই ভাতা প্রদান করা হয়েছে।ঝিনাইদহ পিটিআই সুপার আতিয়ার রহমানের নিকট গত ১৭মে ফোনে বক্তব্য নেওয়ার পর পরই তার আস্থাভাজন দুইজন ডিপিএড শিক্ষার্থী ফারুক ও আতিয়ার রহমান সাংবাদিকদের নিউজ রুমে এসে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ ও চাপ প্রদর্শণের চেষ্টা করে।

একই ঘটনায় পরেরদিন ১৮তারিখ ফারুক ঘটনার বিস্তারিত বলার জন্য দুজন সাংবাদিক কে পিটিআইতে ডেকে নিয়ে জান এর পর সাংবাদিকরা সেখানে গেলে পিটিআই সুপারকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আপত্তি জানানোর পাশাপাশি তাদেরকে হেনস্তা করার চেষ্টা করে।