ভারতে সেনাবাহিনীতে নিয়োগে সরকারের বিতর্কিত অগ্নিপথ প্রকল্পের জেরে বিক্ষোভ চলমান

67
ভারতে সেনাবাহিনীতে নিয়োগে সরকারের বিতর্কিত অগ্নিপথ প্রকল্পের জেরে বিক্ষোভ চলমান

ভারত সরকারের বিতর্কিত অগ্নিপথ প্রকল্পের জেরে তৃতীয় দিনের মত চলছে বিক্ষোভ। বিহার ও উত্তরপ্রদেশে বেশকিছু ট্রেনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা ছড়িয়েছে হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশেও। পরিস্থিতি বিবেচনায় হরিয়ানায় বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইলের এসএমএস সেবা। বৃহস্পতিবার বিহারে বিজেপির কার্যালয়েও হামলা হয়।

মঙ্গলবার অগ্নিপথ প্রকল্প ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ওই প্রকল্পে সাড়ে ১৭-২১ বছরের তরুণ-তরুণীরা চার বছরের জন্য মাসিক ৩০-৪৫ হাজার টাকার চুক্তিতে সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখায় যোগ দিতে পারবেন। তাদের বলা হবে অগ্নিবীর। তবে, সেনায় শূন্যপদ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চতুর্থ বছরের শেষে সেই ব্যাচের সর্বাধিক ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে সেনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাকিদের ১১-১২ লক্ষ টাকা হাতে দিয়ে পাঠানো হবে অবসরে। থাকবে না কোনো পেনশন।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ-সহিসংতা। সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ হয়েছে বিহারে। এই রাজ্যের তরুণদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের হার সবচেয়ে বেশি। রাজস্থান, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশ থেকেও বিক্ষোভের আঁচ মিলেছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, চাকরিতে স্থায়িত্বের কারণে গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণরা সেনার চাকরিকে বেছে নেন।

সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কা তাদের। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেও স্থায়ী এবং অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক সেনা সদস্যদের একাংশ। চুক্তিভিত্তিক কাজে অগ্নিবীরদের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এদিকে, চলমান বিক্ষোভের জেরে নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত সরকার।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে অবসর নেয়া অগ্নিবীরদের আধাসেনায় নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত অগ্নিবীরদের অগ্রাধিকার দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিহার সরকারও। যদিও এমন প্রতিশ্রুতিতে বিক্ষোভ কমার ইঙ্গিত মিলছে না।