ভালোবাসি তোকে

46

এম রাসেল আহমেদ

সুপ্রভাত বগুড়া (প্রচ্ছদ): আই লাভ ইউ! মুখের কথা বলেই দিলাম । কিছুক্ষন চুপ করেই থাকে মুহিনী, ওদিক থেকে নিশ্বাসের আওয়াজ ছাড়া কোন আওয়াজ নেই। ঝিঝি পোকার ডাক নিসুতী রাত, জানালার পাশে বসে ফোনে নেটওয়ার্কের আশায় লেপ ছেড়ে উঠে বসে বলছিলাম একটা সুন্দরী মেয়েকে। ফোনে সব মেয়েকে সুন্দরী মনে হয়। তাছাড়া আমিতো তাকে চিনি সে ছিলো নামধারী সুন্দরী।দেখনে ওয়ালী । যাইহোক যা বলছিলাম তাকে, কি হলো চুপ কেন কথা বলছিস না কেন? বলাতে সে বলে তুই কথাটি বলতে পারলি? আমি বলেছি ভালোবাসি বলেই, তুই ভালো বাসিসনা আমায়? নাকি তোর মনে কোন সৎ সাহস নেই? শান্ত কন্ঠে বলে সৎ সাহস আছে কিন্তু তোর মতো নেই ,ভাবছি কি করে বললি কথাটা! আমায় কয়েকদিনের ছোট সে তাই তুই করা বলা।

আমিতো বলেই দিলাম, এতো ভাবিনা কোন বিষয়ে, আমার মুখের এক কথা যা বলি তাই করি। মিথ্যা বলিনা তাই এতো ভাবতে হবে।মিথ্যা কথা ভেবে বলতে হয়, এক মিথ্যা হাজার মিথ্যা দিয়েও ঢাকা যায়না। মিথ্যা সকল পাপের মুল। ঠিক আছে আমি তো বললাম এবার তুই বল। জানিনা কথার মাঝে মেয়েদের কত কিছু লুকানোর থাকে তাই সে বলে, আমি তোকে ভালবাসি তবে এভাবে বলবনা । বললাম কি করে বলবি? বলে চিন্তা করেই বলব। তবে আমাকে এভাবে না বলে এস এম এস করেই বলতে পাড়তিস।

আমি বরাবর বোকাই ছিলাম কিন্তু কাজ হয়ে যায় একবারে চালাকির, আসলে সৎ মানুষ আমি কপাল ভাল বটে। সেদিন যদি এস, এম, এস করতাম তবে সেই এস ,এম ,এস তার মাকে দেখাতো যে আমি তাকে ভালোবাসি, তাকে প্রেমের এস, এম, এস করেছি,বিয়ের প্রস্তাব করছি, এর একটা বিহিত করতে হবে। আমি জানতাম না মুহিনী আমার সাথে এরকম চাল চালবে, আমার ভাবনা একদিন সত্যি হলো। আসলে তার সাথে আজই প্রথম কথা বলা ফোনে। ভয়ানক প্রকৃতির ছিল সে ,তার থেকে দুরে অনেকে। ঝগড়া করতে পারে প্রচুর ।

আমি প্রকাশ্যে মেয়েদের থেকে দুরে থাকি আমি।তবে এলাকার প্রতিটি দেখনে ওয়ালীকে অনায়াসে প্রপোজ করেছি কেউ কারো কথা জানতনা। মানুষ নিয়ে এমপিল,পিএইচ ডি করছি নিজের কাছে, এটা কেউ ডিগ্্রী দেয় জানিনা। কার আচরণ কি, অতীত,বর্তমান বলে দিতে পারতাম, তাই বুঝতে অসুবিধা হতোনা। সত্যি সত্যি তার মাকে বলেছে তাকে আই লাভ ইউ বলেছি । আই লাভ ইউ এর মানে তার মা প্রথমে বুঝতে পারেনি তাই কোন এ্যকশনে যায়নি, পরে তার থেকেই শোনে এর প্রকৃত মানে কি. কতদুর যার এর মানে।

একবার তিন বার কবুল বলার কারনে একজন আরেক জনের সাথে সারাজীন কাটায় আর একবার আইলাভ ইউ বলার কারনে একজন আরেক জনের সাথে সদা সর্বদা সময় বন্ধুর মতো থাকে। এটা অবশ্য বৈধ নয়, তবে বৈধ আগের কথাটা। আমি পাড়া বেড়াতাম খুব, এখন এ পাড়াই তো একটু পর আরেক পাড়াই । আমি বাজে সভাবের ছিলাম না। কারো কোন ক্ষতি হবে এমন কোন দিন করতামনা, সে ক্ষেত্রে মেয়েদেও খূব সন্মান করতাম, এখনো করি। নেহাতি গবেষণা করছি তাই প্রপোজ করা।

আগেই বলে রাখি আমি বরাবর অন্যরকম ছিলাম, আমার আচরনে তাদের মুগ্ধ করে দ্বিন-ইসলামের কথা শোনাতাম।পর্দা করা,নিজের যৌবনের হেফাযত করা,লজ্জাস্থানের হেফাযত করা,লজ্জা ও জিহব্বার হেফাযত করা শেখাতাম। মানুষকে বুঝাতাম আমাদের জন্ম হলো কেন? কিন্তু সবার কপালে কি হেদায়াত লেখা থাকে, হেদায়াতের মালিক আল্লাহ।এটা বরাবর বুঝাতাম যে বিবাহ বহির্ভুত প্রেম বৈধ্য নয়।তাদের মন ভাঙ্গার আগেই তা করতাম। যাকে যে অবস্থায় পছন্দ করতাম শুধু সেই জানে আমাকে, বাকিদের সাথে আলোচনা না করতে বলতাম,উভয় সংকট না হতে।

সবার সাথে খুব মিশতাম। কোনদিন কারোর থেকে ধমক খাইনি কেউ চোখ রাঙ্গা দেখায়নি। একদিন মুহিনীর মা আমায় রাস্তায় একটা কথা শুনে যেতে বলে, আমি একটুও ভয় পাইনি কাছে এসে শুনতে চাইলাম কি কথা । কাছে আসতেই কানে কানে বলে আমি যা শুনছি তা কি ঠিক বাবা? আমি বললাম কি শুনছেন? সব বলল মানে রাতে যা বলেছি। আমি একটু সাহস নিয়ে বললাম, না তেমন কিছু নয়,মানে সত্য নয়। সে বলল আমি জানতাম তুমি সেরকম ছেলে নয়, আর কিছু হয়ে থাকলে একটু অপেক্ষা করতে হবে, তার পড়া শুনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু হবেনা। আমাদের বড় মেয়েকে একটু অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দিয়েছি তুমি জান,তাই আমরা চাই একটু পড়াশুনা করুক সে। বড় মেয়েও আমার ছোট ছিল। আমি বলছি কি বলছেন এসব !

আমি চেপে যেতে চাইছি কিন্তু তারাতো আমাদের বয়স পার করেছে সব বুঝে ফেলে। আমি বেশি কথা না বাড়িয়ে কেটে পরি, আর একটু বাদে তাকে ফোন করে বলি, তোর মুখে কি কিচ্ছু আটকায় না? সে হাসি দিয়ে বলে কেন কি হয়েছে? বললাম তোর মাকে বলার কি দরকার ছিলো? বলে তোকে ভালোবাসব আর অনুমতি নিবনা তা কি করে হয়? আসলে সারা রাত কথা হয়েছিলাম ,এখন যা বলছি আমাদের মধ্যে যে কথা হচ্ছে তা দুজন ছাড়া পৃথিবীর কেউ জানলে আমার পক্ষে এ সম্পর্ক টিকানো সম্ভব নয়। সারারাত পড়িয়ে কি লাভ হলো? আমার একটা গবেষণার বিষয় ছিল মেয়েদের মনে কোন কথা থাকেনা, তারা দুই দিন ১৪ ঘন্টার মধ্যে কাউকে না কাউকে বলবেই যে যার বয়সে। এটাও সত্য হলো।

সে আমাকে সপথ করিয়ে ছিলো আগেই। আমি সরল মনা মানুষ সত্য বলি তাই সপথ করেছি কাউকে বলবনা আর ওদিকে আমার সর্বনাশটা করে দিল। তারা যে স্কুলে পড়তো সে স্কুলের পাশ দিয়ে আমি একটা মেয়েকে পটাতে যেতাম দু বছর আগে। তথন তাকে স্বপ্নেও ভাবিনি, একটু আইডিয়া ছিলো সে মেয়ে সুবিধার নয় কিন্তু ঐ যে গবেষনা! এই গবেষণাই আমাকে পথে বসিয়ে ছাড়লো। একটার পর একটা মেয়ে পটিয়ে বিশ্বরেকর্ড করবো ভেবেই এসব করছি, ভালো করছি তাদের এটা কেউ বলবেনা।

আই লাভ ইউ বলার অভ্যাস সেখান থেকেই হয়েছে। মুহিনী আমার জীবনে এক শত তেইশ তম মেয়ে এক শত বিশ তম মেয়ে ছিলো চাচাতো ভাইয়ের খালাতো বোন। আমার এক দুঃসম্পর্কের চাচাতো বোনকে বলেছিলাম আমাকে কোন মেয়েই পছন্দ করেনা কারন কি কিছু বলতে পারিস? সে বলে পছন্দ করেনা নাকি তুই কাউকে পাত্তা দেসনা? বললাম ধুর! কেউ একটা খোজে থাকলে আমার জন্য ব্যবস্থা করিস। সে বলে আচ্ছা! কথার মধ্যে একটু গন্ধ পেলাম তা পরেই বলছি। আমি আসলে রেকর্ড সংখ্যক মেয়ে পটিয়েছি তার লিস্ট আছে , এরই মধ্যে বন্ধুদের মধ্যে একটা কানাকানি চলে এসেছে যে প্রেম করতে চাইলে আমার কাছে যেন চলে আসে।

আমি তাদের পটানোর কৌশল শিখিয়ে দিতাম ,মেয়ে পটতো।একটা জিনিষ শিখে গেছি এরই মধ্যে মিথ্যা বলা অযস্্র মিথ্যা বলতে পারতাম।চাচাতো ভাইয়ের খালাতো বোনকে ছেড়েই দিলাম সিরিয়াল নং নোট করার পর এবার মুহিনীর সিরিয়াল চলছে। খুব ঝগড়া করলাম শেষে সে আমাকে শিক্ষা দিল , দেখ আমি তোকে শুধু ভালোবাসতে চাইনা, আমি একবার ভালোবেসে তোর থেকে দুরে যেতে চাইনা। তোকে ভালোবাসলে বিয়ে তোকেই করব। আমি কথা শুনে অবাক! এ বলেকি, আমিতো সিরিয়াল নং নোট করবো, একে বিয়ে! মোটেও তা সম্ভব নয়। একটু সরে যেতে লাগলাম, পারিনা। সারাদিন ঘুরে ফিরে অবসরে তাকে সময় দিতে থাকি।

একদিন আমাকে খুজইে বলে তোর সাথে আমার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আমি বললাম কেন? সে বলে তার পারিবারিক সমস্যা আছে। আমি আগ্রহের সাথে বললাম সব সমস্যা আমি সামলে নিব। ঐ যে মিথ্যা বলতে শিখে গেছি, কিন্তু ওপারে লাইভ চলছিলো জানতাম না। আমার সাথে কথা বলার সময় মাকে সব শোনাচ্ছে।বোকা বনে গেলাম তবুও হাল ছাড়িনি আমি ,কারন তখন কিছু জানতোম না। আমি ভাবছি আমিই তাকে না করে দিব কিন্তু সে আমায় না করেছে , আমার জীবনে কোন ব্যর্থতা নেই, আমি সফল । তার কারনে আমার সিরিয়াল ড্রপ করতে চাইনা। তাই একটু উপরে তুলে ছেড়ে দিব। তাহলেতো তার সাথে সম্পর্ক রাখতেই হবে।
একদিন ফোন করে বললাম তোকে দেখতে ইচ্ছে করছে তুই আয়। আমি তাকে আমার কাছে আসতে বলি। পড়া শুনার জন্য দুজন দুই এলাকার বাসিন্দা হয়ে গেছি।

আমার কথামতো সে পরের দিন আমার সাথে মিট করে। আমি সেদিনের মতো ভাবছি এখন ছেড়ে দেওয়া যায় কারন সে পটেছে। আমি দুপুরে ঘুম থেকে উঠি তার ফোন পেয়ে, বলল কোথাই আছিস? বললাম বাসায়।এখনি আমার সাথে দেখা কর। একটু ভয় পেলাম বললাম কি হয়েছে এখানেই বল। বলল আমিতো চলে যাচ্ছি আর দেখা হবেনা সামনে আমার পরীক্ষা, শেষ দেখা করেই যাই। একটু নরম হয়ে গেলাম, শেষ দেখাতো করেই আসা যাবে, বলছি আমি রাস্তায় বের হচ্ছি আয়। বলল আমি সেদিকে যাবনা আমার এদিকে আয়। আমি তো পারবনা তাকে বললাম কিন্তু তবুও কেন এতো করে বলছে ভাবিনি, সোজা বললাম আমি বড় রাস্তায় থাকব সেখানেই দেখা হবে।

সে বলল ঠিক আছে আমি এখনি যাচ্ছি তুই আয়। ঠিক আছে আসছি বলে একজনকে সাথে নিয়ে সেই রাস্তায় আসতেই তার মাকে নিয়ে গাড়িতে চড়ে আমার সামনে দিয়ে চলে গেল। যাওয়ার সময় লক্ষ করলাম মা মেয়ে মুচকি হাসছে ,সে হাসির মানে তখন বুঝিনি।আমার সাথে তার মা কথা বলত,কিন্তু আজ বরলনা। আমি খুব রেগে গেলাম ভাবছি আমার সাথে ধোকা! এর একটা বিহিত করবই । আমি ধোকা খেলাম, চোরের দশদিন মালিকের একদিন।

একটু পর তার ফোনে ফোন দিলাম রিসিভ হয়না ভাবছি তার মা আছে তাই রিসিভ করেনি। অপেক্ষায় থাকলাম পুরো বিকাল আমার আর শান্তি নাই তার সাথে কথা না বলে, কেন সে এতোবড় ধোকা দিল এই ভেবে। এক ঘন্টা পর সেই আমায় ফোন করে বলে কেমন দিলাম বল! আমিতো সেই এমপির মতো বোকাচোদা হয়ে গেলাম! বললাম কি দিলে? আমাকে ফাকি দিলে আর কি? আচ্ছা মাকে নিয়ে আসার কি কারন ছিলো সেটা বল? সে বলল তুই আমাকে ভলোবাসিস মা বিশ্বাস করেনি তাই মাকে প্রমান করে দিলাম আমাকেও মানুষ ভালোবাসতে শুরু করেছে? মানে কি? তোকে মানুষ ভালোবাসতে শুরু করেছে তার মানে কি? কয়টা ছেলে তোকে ভালোবাসতে শুরু করেছে? ভাবছি সেওকি আমার মতো ছেলে পটাতে শুরু করলো নাকি!

আমি এই বয়সে ব্যর্থ হতে চাইনা আমাকে পাশ করতেই হবে । পরে জানতে পারি অনেক ছেলেই তাকে পছন্দ করেছিল, এখনো করে, তবে আমি থাকাতে সবাই পালিয়েছে। এক ছেলে বলেছিল ভাই আপনার কপাল! বললাম কেন? বলল আমরা এতোদিনে কিছু করতে পারলাম না আর আপনি ছিপে তুলে নিলেন? বললাম, সিরিয়ালে আর কেউ কি আছে নাকি? তোমাদের কি কোনদিন ধোকা দিয়েছে? সে বলল, না ভাই সে পটেনা। অনেক ছেলেই তাকে চেয়েছে কিন্তু কেউ ছিপে তুলতে পারেনি এটা সত্য।

ঠান্ডা মাথাই তাকে বললাম আচ্ছা বল, সত্যি কি তোর মা ব্যপারটিা জানে? বলল হ্যাঁ।রেগে গিয়ে বললাম ঠিক আছে অ ামার সম্মানের যদি কোন দাম না থাকে তোর কাছে তবে আমি এক্ষুনি তোর বাপকে গিয়ে তোর সব কু র্কিতী ফাস করে দিব। বলবো তুই আমাকে ফাসিয়েছিস। আমার কাছে অনেক অনুরোধ করে বলল তার বাবাকে যেন না বলি। মুল ঘটনা হচ্ছে, আমার ফোনে কল লিস্টে তার নাম্বার থেকে আগে কল এসেছিল, আমি কল ব্যাক করেছি। আমি তার নাম্বার জানতামনা, কোনদিন জানত্ওে চাইনি, প্রেম ভালবাসা তো দুরের কথা। আমি পড়লাম মহা ঝামেলায়, তার মা কি ভাবছে কি জানি। কথা বলা বন্ধ করে দিলাম তার সাথে তার মা আমায় ডেকে পাঠিয়েছিলো সত্যতা জানতে , বললাম আমি মজা করেছি মাফ চাই।বলল সমস্যা নাই এই বয়সে এরকম একটু হতেই পারে।

তুমিতো খারাপ ছেলে নও বাবা, তাছাড়া তোমার পরিবারের সবাই ভালো। আমি তো ইঙ্গিত পাচ্ছি কি বলতে চায় তারা।এতো কিছুর পর আমি তার সাথে কথা বলতে চাই না, আবার মনের সাথে আপোস করতে ও পারিনা। বহুদিন তাকে ফোন দেইনি, সেও দেয়নি। তার কথা ভুলে গেছি অন্যকেউ সিরিয়ালে চলে এসেছে।কিছুদিন পরে আবার আমায় ফোন করতে শুরু করে। সিরিয়াল চলছেই, তাকে পটানোর চেস্টা থেমে নেই, আমার সাথে সব কিছু শেয়ার করে কিন্তু আর আই ল্ভা ইউ বলেনা। বলে তোর আর আমার মাঝে সেটা কখনো সম্ভব নয়। আসলে আমিতো জানি তা সম্ভব নয় কিন্তুু তুই বুঝবিনা আমি ব্যর্থ হতে চাইনা, লোকে বলবে আমি ছেকা খাওয়া মাল। আমি এই কথা লোক মুখে শুনতে পারবনা, তাই আবার শ্রম দিতে থাকি। কথায় কথায় একটা কথা বলে সব সময় ,আমার কপাল তখনি অনেক ভাল হতো তুই অন্য এলাকার হলে, আমার এ জীবনে তোকে ভুলে থাকা স¤ভব নয়। আমি জানতোম তার জ্বালা। তাকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা চিরতরে চলে যেতে লাগে।

আমি যদি কিছু করি তবে মনে হয় তার জন্যে কিছু করি। সত্য সত্য অনেক ভাল মনের মানুষ ছিল সে। পরিস্থিতি তার বিপরীতে চলে। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি, তার থেকে দুরে, অনেক দুরে। আমি ভাবতে থাকি মানুষের মন নিয়ে খেলা ঠিক নয়, তাছাড়া তার স্বপ্নের কথা ভাবতে থাকি। আমার মানুষের স্বপ্ন ভাঙ্গার অধিকার নাই।আমার উচিৎ হবেনা তার পিতা মাতার হক নষ্ট করা। তাকে বাইরে থেকে পড়া-শুনা করায়, আমি ও আমার জীবন অন্যভাবে সাজাতে পারি তাকে ছাড়া। আমার চাকরি করার বয়স হয়নি তাই এই বয়সে ভুল পথে পা বাড়ানো ঠিক হবেনা জেনে আবার ঠিক মতো পড়া শুনা শুরু করলাম পুরো দমে। একদিন বলল নিজের পায়ে দাড়াতে, আরো বলে কিছু একটা কর ।

তার সাথে অনেক কথা বলেছি আগে ( ফোনে) আশপাশের লোকজন বলতো, এরা এতো আঞ্চলিক কেন? এরা কি মুর্খনাকি? ভদ্র ভাষায় কথা বলতে জানেনা এরা, তবে অনেকে প্রশংসাও করতো এটাই ঠিক। কিন্তু আজ বলল ভদ্র করে। আমি নিজেই পায়ে দাড়াতেই কিছুদিন পর ব্যবসা শুরু করি,কিন্তু সে আমায় ছেড়ে চলে যায়। সমস্থ যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে একা করে রাখে।মানসিক ভাবে বিকল হই,যা কেউ জানেনা , বাসায় আসেনা , এক কথায় বলছি সব দিক থেকে বন্ধ যোগাযোগ। যে যে উপাই ছিল সব চেষ্টা করেছি কিন্তু পাইনি তাকে।কাউকে এ ব্যপারে বলা যাবেনা তাই প্রতিটি নির্ঘুম রাতে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকি হয়তবা কোন এক সময় আমায় ফোন করবে অথবা চিঠি দিখবে। কিন্তু না, হারিয়ে ফেলেছি তাকে।

এভাবে দুই বছর কেটে গেল, সেই প্রথমে ফোন করে অন্যেও ফোন থেকে কেমন আছি আমি। অজান্তে চুপ হয়ে গেছি কথা বলতে পারিনি। বলল আমার খবর রাখে সে, আমি নাকি তার খবর রাখিনা, এটা অন্যের ফোন রাখছি বাই, শেষ। নিজের নাম্বার আজও দেয়নি, সমস্থ কথা অন্যদের ফোন থেকে বলে যা সমস্থ মেয়েদের নাম্বার। সব নাম্বার নোট করা আছে, একদিন সে ব্যপারে লিখতে হবে। আমিতো ছেড়ে কথা বলার মানুষ নই ।
ঠিক দুই বছর হয়ে গেল এখনো সেই কাঙ্খিত কথাটা তার মুখ থেকে বের করতে পারিনি।

অবশ্য আমার সাথে সম্পর্ক খারাপ না ,পার্কে যাই, রেল লাইন দিয়ে হাটি পাশাপাশি, রিক্রা নিয়ে বেড়াতে যাই আরো কত রাত নির্গুম কাটে তা বুঝানোর মতো নয়। এর মাঝে আমিও শিখে গেছি কত কিছু, সিরিয়াল চারশত পার।আজ ঘুম থেকে উঠে অনেক এসএমএসরে মাঝে মুহিনীর একটা এস. এম .এস, আমি কারো মতো এতো ভাবারু নই, সো ১৪৩! কিছু বুঝে উঠতে পারিনি সেদিন।

এম রাসেল আহমেদ                                                                                                           লেখক/প্রবন্ধিক
০১৭২৩৫৬২৪৭২