মহাদেবপুর মুর্তুজাপুরে আজিজ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

164

সুপ্রভাত বগুড়া (অন্তর আহম্মেদ): নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মর্তুজাপুর গ্রামের মৃতঃ মফিজউদ্দিনের পুত্র মোঃ আঃ আজিজ হত্যার প্রতিবাদে আসামিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে আসামীদের বাড়ীর সামনে সকল গ্রাম বাসী ও আশে পাশের জনগনও সেখানে একত্রিত হয়ে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বাদ যহুর দুপুর ২ ঘটিকার সময় এলাকাবাসী মর্তুজাপুর আসামীদের বাড়ীর সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এই মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করে মর্তুজাপুর সহ আশে-পাশের গ্রামের প্রায় ৫০০ (পাঁচশত) নারী,পুরুষ,বৃদ্ধ ও শিশুরা। আসামীদের বাড়ীর সামনে বিশাল বড় ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তাহারা এর ন্যায় বিচারের জন্য।

প্রায় আধা-কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা লাইন এবং দুরুত্ব বজায় রেখে মোঃ আজিজ হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দ্রুত তাদের ফাঁসীর দাবীতে এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন। উল্লেখ্য, আসামী ১/ মোঃ সাইফুল ইসলাম(৩২), ২/ মোঃ শরিফুল ইসলাম (২৮), উভয় পিতাঃ মোঃ আলিম উদ্দীন,৩/ মোঃ আলিম উদ্দীন,পিতাঃ- মৃতঃ সৈয়দ আলী, ৪/ মোছাঃ ছায়েদা বেগম (৫৫), স্বামীঃ- মোঃ আলিম উদ্দীন, সর্ব সাং- মর্তুজাপুর, ৫/ মোঃ সাইদুল (৩৪) ৬/ মোঃ আশাদুল ইসলাম(৩২) উভয় পিতাঃ- মৃতঃ- সায়েদ আলী, ৭/ মোঃ আইনুল(৪৫) পিতাঃ- মৃত গয়া, সর্ব সাং দেবীপুর, থানাঃ- মহাদেবপুর, জেলাঃ- নওগাঁ।

উল্লেখ্য থাকে যে, বারবার বাদী মোঃ মালেক (৫০) এর বসত বাড়ীর প্রায় ০৫ গজ দক্ষিনে যাতায়াতের কাঁচা রাস্তার মাঝখানে খুটি বসিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দীনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ছিলো এবং সে বারবার মিমাংশাও করে দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ৭ ই মে ২০২০ ইং তারিখ দুপুর অনুমান ২ঃ০০ সময় উপরুক্ত আসামী গনেরা পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র ও শাবল নিয়ে উক্ত যাতায়াতের রাস্তায় আবারো খুটি পুঁততে থাকে এবং তাদেরকে যাতায়াতে বাঁধা দেয়,,বাদীর মেজো ভাই খালেক কারন জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ৩ নং আসামীর হুকুমে ২ নং আসামীর হাতে থাকা ধারালো শাবল দিয়ে হত্যার উদ্দ্যেশে মাথায় আঘাত করিলে সে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে,তার ডাক চিৎকার শুনে মালেক ও ছোট ভাই, এলাকার সবার প্রিয় ও শান্ত প্রকৃতির আঃ আজিজ (২৮) উপস্থিত হইলে ১ নং আসামীর হাতে থাকা আরেকটি শাবল দিয়ে মাথার মাঝখানে সজোরে আঘাত করিয়া, তাকেও মাটিতে ফেলিয়া দেয় এরপর তাকেও হত্যার উদ্দ্যেশে ২ ও ৩ নং আসামীর হাতে থাকা শাবল দিয়ে মাথার ডান দিকে বারবার আঘাত করে মাথা ও কান ফাটিয়ে দেয়,অন্য দিকে ৪,৬,৭ নং আসামীদের হাতে বাঁশের লাটি দিয়ে বাদীকেও মাথায় বারবার আঘাত করে মাটিতে ফেলিয়া দেয়।

এর পর সাক্ষিঃ- আহসান হাবিব,মোছাঃ স্বপ্না,মোছাঃ শিল্পী,ও মোঃ আঃ সাত্তার এসে তাদেরকে চার্জার যোগে প্রথমে মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। কর্তব্যরত ডাক্তার আঃ আজিজ ও খালেককে আশংকা জনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন ০৮/০৫/২০২০ ইং তারিখে আঃ আজিজ মারা যায়। ঐ তারিখে মৃত্যুর সকল কাজ সম্পর্ন করে বড় ভাই মোঃ আঃ মালেক বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। বর্তমানে আরেক ভাই মোঃ আঃ খালেক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পান্জা লড়ছেন।

পরের দিন ৫ নং আসামী মোঃ সাইদুল (৩৪) কে গ্রেফতার করলেও বাঁকী কোন আসামীদের মহাদেবপুর থানা পুলিশ, এখনো গ্রেফতার করতে পারে নাই। এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় জন-সাধারন সহ গ্রামের সুশিল ব্যাক্তিবর্গরা। ১/আব্দুর রহিম তাপশ,২/ আহসান হাবিব, ৩/ মুরাদ, ৪/ মোছাঃ মরিয়াম ও ৫/ আজিজ হত্যা মামলার বাদী মোঃ আঃ মালেক প্রমূখ। তাহারা (সকল) বক্তারা আঃ আজিজকে নির্মম ভাবে হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার আইনে আসামীদের ফাঁসির দাবি জানান।

এছাড়া হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তি ছাড়া নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার যেন না হয় সেদিকে সুদৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের প্রতি উদ্দার্থ আহ্বানও জানান। ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এলাকার পাঁচশতাধীক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করে। উল্লেখ্য, বিবাদমান জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মোঃ আঃআজিজকে হত্যা ও ২ জনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ইতিমধ্যেই পুলিশ এ মামলার ১ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। মর্তুজাপুরের লোকজনেরা জানায়, উক্ত আসামীরা এলাকার দাঙ্গাবাজ ও দুধর্ষ্য লোক, তাদের শেল্টার দেয় উক্ত ইউপির আলমগীর মেম্বার। এলাকাবাসী আরো জানায়, ঘটনার সময় আসামীরা আলমগীর মেম্বারের বাড়ীতে ছিলো, আলমগীর মেম্বারই গাড়ীতে করে আসামীদের দেবীপুর থেকে মর্তুজাপুরে নিয়ে এসে বলে, একটাও যেন বাঁচতে না পারে আমি তোমাদের সাথে আছি। গ্রাম বাসীরা আরো জানায়,আলমগীর মেম্বার এমন সাহস না দিলে এতোবড় ঘটনা ঘটতো না।

খেজুর ইউ,পি চেয়ারম্যান জানায়, যদি আলমগীর মেম্বার জড়িত থাকে তাহলে পুলিশ তদন্ত করে চার্জশীটে তারও নাম দিতে পারবে। আলমগীর মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে সে জরিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলে, আমি তাদেরকে দেবীপুর থেকে মর্তুজাপুরে নিয়ে গিয়ে নেমে দিয়েছি কিন্তু আমি এমন কথা বলি নাই।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে থাকা এস,আই এরশাদের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানায়,একজন জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে,বাঁকী আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে এবং অল্পদিনের মধ্য তা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

আলমগীর মেম্বারের জড়িত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলে বলেন, মামলা হয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর বাদী একদিন এসে বলেছে, একজনের নাম ছাড়া পড়েছে। যেহেতু এটা একটি খুব স্পর্শ কাতর মার্ডার মামলা, তাই তদন্ত খুব ভালো ভাবে করছি, যদি আলমগীর মেম্বার জড়িত থাকে, তাহলে অবশ্যই সেও আইনের আওতায় আসবে।