মহানবী (সা.)কে কটূক্তির প্রতিবাদে অলরাউন্ডার মিরাজের বক্তব্য

100
মহানবী (সা.)কে কটূক্তির প্রতিবাদে অলরাউন্ডার মিরাজের বক্তব্য।

সুপ্রভাত বগুড়া ডেস্ক: ফ্রান্সে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনীর প্রতিবাদ জানালেন জাতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। মহানবী (সা.)কে নিয়ে করা কটূক্তি শুনে তার হৃদয় ভেঙে কান্না এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে সে জন্য মুসলমানরা যেন অন্য ধর্মের কাউকে নিয়ে কটূক্তি কিংবা গালিগালাজ না করে, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন মিরাজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে এসব কথা বলেন এ তরুণ অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), যিনি পৃথিবীবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ এসেছিলেন, তাকে নিয়ে বেশ কটূক্তি করা হচ্ছে। তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে এটা শোনার পর আমার খুবই খারাপ লেগেছে। আমার হৃদয় কেঁদে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই জানি, আমাদের প্রিয় নবী করিম (সা.) পৃথিবীতে এসেছেন রহমতস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা তাকে পাঠিয়েছেন পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য, আমাদেরকে নাজাতের পথ দেখানোর জন্য। আমাদেরকে ভালো পথ দেখানোর জন্য তিনি এসেছেন। আমি বলব না যে, তিনি শুধু মুসলমানদের জন্য এসেছেন। তিনি পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের জন্য আলোর বার্তা নিয়ে এসেছেন। তাকে নিয়ে যখন বাজে মন্তব্য করা হয়, কটূক্তি করা হয়, তখন প্রত্যেকটা মুসলমানের খারাপ লাগে।

প্রত্যেকটা মুসলমানের হৃদয়কে আঘাত করে।  মিরাজ বলেন, প্রতিটা মুসলমানের দায়িত্ব যারা এমন কটূক্তি করে তাদেরকে নিয়েও যেন এ রকম কটূক্তি না করে। মহানবী (সা.) এবং কুরআন আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে, অন্য ধর্মকে কখনো গালি না দেয়ার জন্য। আমরা যারা মুসলমানরা আছি, তারা কখনো অন্য ধর্মকে কটূক্তি করা কিংবা গালি দিতে পারি না। কিন্তু যখন দেখি আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে বাজে কথা বলে তখন আমাদের খুব খারাপ লাগে।

এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি আমার লাইফে অনেক বই পড়েছি। কিন্তু যখন মহানবী (সা.)-এর জীবনী পড়েছি তখন আমি দেখেছি, কী সুন্দর করে তিনি তার জীবন সাজিয়েছেন। পৃথিবীতে আর কারও জীবনী এত সুন্দর না। এত ভালো লেগেছে। আমার মনে হয় না, তার জীবনীর মতো শ্রেষ্ঠ জীবনী আর কারও হতে পারে।

মিরাজ বলেন, ধর্মকে নিয়ে যেন বাড়াবাড়ি না করা হয়। এটা আমাদের খুব খারাপ লাগে। প্রতিটা মানুষই মারা যাবে। মরার পর কী হবে, আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা যেহেতু আল্লাহকে বিশ্বাস করি, আমাদের উচিত অন্য কোনও ধর্মকে হেয় না করা। কোনও মানুষকে ছোট না করা। আমরা জানি যে, একটা সুরাও নাজিল হয়েছে সূরা কাফিরুন নামে। যেখানে বলা হয়েছে, তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য। তো সবাই সেটি মেনে চলার চেষ্টা করবেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।