মাটিরাঙ্গায় কৃষকের পাঁকা ধান কেটে দিল ছাত্রলীগ

91

সুপ্রভাত বগুড়া (এমদাদ খান, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি): খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকার কৃষক রমজান আলী ও রজ্জব আলী। তাদের জমি জুড়ে সোনালী ধানের ছড়াছড়ি। জমি জুড়ে সোনালী হাসি থাকলেও এ দুই কৃষকের মুখে হাসি ছিলনা। চলমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। শ্রমিক সঙ্কটে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এ দুই কৃষক।

এ পরিস্থিতিতে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগ। “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” এ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা আহবানে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় সোমবার (১২ মে) দিনব্যাপী খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন ফিরোজ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক জুয়েল চাকমা ও যুগ্ম-আহবায়ক মো. ওসমান গনি‘র নেতৃত্বে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চরপাড়া এলাকার কৃষক রমজান আলীর ১শ ৬০ শতক ও রজ্জব আলীর ১শ ৪০ শতক জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দিল।

সোমবার দুপুরের দিকে দুপুরে চরপাড়া এলাকা ঘুরে দেখো গেছে, কৃষক রমজান আলীর জমিতে ধান কাটছে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন ফিরোজ ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক জুয়েল চাকমার নেতৃত্বে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তার কিছুটা দুরেই মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মো. ওসমান গনি ও মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. তছলিম উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে ধান কাটছে পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পাকা ধান ক্ষেতেই কথা হয় কৃষক মো. রমজান আলীর সাথে। ভালো ফলন হওয়ায় সন্তুষ্টির হাসি হেসে একৃষক বলেন, আমি যখন শ্রমিক সঙ্কটে ধান কাটা নিয়ে হতাশ তখন ছাত্রলীগের নেতারা আমার ধান কেটে দেয়ার প্রস্তাব দেয়।

তবে বিষয়টি আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। আমি যখন শ্রমিক সঙ্কটে ধান কেটে ঘরে তোলতে পারব কিনা তা নিয়ে দুশ্চিতায় ছিলাম তখন তারা আমার অবিশ্বাসকে মিথ্যা করে স্বেচ্ছাশ্রমে আমার ধান কেটে ঘরে তুলে দিল। বিপদের সময় তারা ধান কেটে আমার যে উপকার করেছেন তা ভোলার নয়। আমি তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। একইভাবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে অপর কৃষক মো. রমজান আলীও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিকের সঙ্কট দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক জুয়েল চাকমা বলেন, করোনা আতঙ্কের মধ্যেই বৃষ্টপাতও শুরু হয়েছে এতে কৃষকের ক্ষতির চিন্তা করে আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছি। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সব কৃষকের ধান কেটে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

করোনা পরিস্থিতিতে সকলকে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন ফিরোজ বলেন, ‘কৃষক বাঁচলেই দেশ বাচঁবে’ এ উপলব্ধি থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। পর্যায়ক্রমে তারা বিভিন্ন এলাকার কৃষকের ধান কেটে দেবেন বলেও জানান ছাত্রলীগ নেতারা।