মানুষ ও মনুষত্ব

194
Remove term: মানুষ ও মনুষত্ব- শহিন মানুষ ও মনুষত্ব- শহিন

মো: শহিদুল আলম শাহীন

সুপ্রভাত বগুড়া (স্বাধীন মতামত): সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। পশু ও মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য তা হল মনুষত্ব। মানুষের আছে পশুর নেই। তাই মানুষের যখন মনুষত্ব থাকে না তখন সে পরিণত হয় পশুতে। আমরা তাকে বলি নরপশু। বনের বাঘ যেমন প্রতিনিয়ত শিকারের জন্য ব্যস্ত থাকে তেমনি নরপশুও ব্যস্ত থাকে মানুষকে আক্রমনের জন্য। যে কোন সময় এদের আক্রমনে সবকিছু ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।

যেমন ধরা যায় যৌন লালসা চরিতার্থ করার জন্য মানুষ যখন নরপশু হয়ে যায় তখন তার হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা। তার সামনে যেই পড়ুক না কেন সে ঝাপ দিয়ে পড়ে । কাজ শেষে তার যখন হুস হয় তখন সে প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ভিকটিমকে নির্দয়ভাবে খুন করে। শুধুমাত্র এই কামনা পূরনের কারণে একজন নিরীহ মানুষকে জীবন দিতে হয়।

সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়ার পরেও এ কাজ থেমে নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ কাজ কেন হবে যেখানে এই জৈবিক চাহিদা আমরা বিবাহের মাধ্যমে সহজেই পূরণ করতে পারি । আমাদের দেশে এখন এই সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ শান্তির অন্বেষণে নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায় । কিন্তু কোথায় শান্তি।
পুরো পৃথিবীটা ঘিরে চলছে যুদ্ধ বিগ্রহ, বর্ণবাদ, ধনী দরিদ্রের বৈষম্য, ধর্মান্ধের উগ্রতা, ক্ষমতার দ্বন্দ। মানুষ বাড়িতে থেকেও রেহাই পাচ্ছে না। কোনও নিরাপত্তা নেই।

মানুষ নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এত নীচে নেমে যাচ্ছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রার্থণার জায়গা যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে বসে মহান শ্রস্টার কাছে প্রার্থনা করে শান্তি পেতে চায় সেখানেও দেখা যায় বোমা অথবা বন্দুকধারীর হামলা। রক্তাক্ত করে দেয় প্রার্থনার স্থল।

যদি মানুষের মধ্যে মনুষত্ব থাকতো তাহলে নিঃসন্দেহে এই পৃথিবীটাই বেহেস্তের রুপ নিত। তাই শুধু মানুষ হলে হবে না। সাথে থাকতে হবে মনুষত্ব। মৃত্যু কস্টের হলেও অনেকে মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করেছে পার্থিব যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে। মৃত্যুকেই শান্তির একমাত্র জায়গা মনে করেছে।

আমি আজ যুবক কর্মক্ষম কিন্তু একদিন আসবে বার্ধক্য। তখন হয়ত মনে হবে আমার অতীত। কি ভাবে মানুষকে কস্ট দিয়েছি।এই অতীতকে কোন ভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। আমার কৃতকর্ম ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়ে রয়ে যাবে। তাই এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে ভালো কিছুকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

পারমানবিক বোমা তৈরী ও মারার কি কোন দরকার ছিল। দেশে দেশে পারমানবিক বোমা তৈরী হচ্ছে। মানুষ নিজেরাই নিজেকে ধংস করার চেষ্টা করছে। অথচ এই পরমানু মানুষের প্রকৃত বন্ধু হতে পারত। আমরা উল্টোটাই করছি। প্রকৃতিকে ধংস করছি।

প্রতিটি মানুষকে তার বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। শান্তির উপায় বের করতে হবে। মনুষত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাহলেই আমরা শান্তির দেখা পাব। এই বিশ্ব হয়ে উঠবে শান্তির আবাস ভুমি।

                                                                                             লেখক/প্রবন্ধিক:                                                                                                           মো: শহিদুল আলম শাহীন                                                                                                 মোবা: ০১৭৩৮-৪৮৯২০৬।