ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষর নকল করে শাজাহানপুরে প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি

330
ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষর নকল করে শাজাহানপুরে প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি। প্রতিকী-ছবি

সুপ্রভাত বগুড়া (আবদুল ওহাব শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া শাজাহানপুরে বীরকুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম এর বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষর নকল করে গোপনে বিদ্যালয়ের সম্পদ লীজ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদ জমা দিয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্ষ্টি সুত্রে জানাগেছে।

মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয়রা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য মোজাহার আলী এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টির নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি বড় পুকুর আছে। এটা লীজ দিয়ে প্রতিবছরে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা আয় হয়। কিন্তু এ আয় থেকে কয়েক বছর যাবত বিদ্যালয়টি বঞ্চিত হলেও বীরকুল্ল্য গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম সেই পুকুরে মাছচাষ করে।

এ সম্পর্কে কয়েকদিন হলো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তাদেরকে জানান, প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম পুকুরটি তাকে তিন বছরের জন্য লীজ দিয়েছেন। প্রতিবছর একুশ হাজার টাকা করে নেন এবং এ সংক্রান্ত কাগজ পত্রও দেখান। পরে এ বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুরটি আমি লীজ দেইনি। ম্যানেজিং কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি তাতে স্বাক্ষর করেছি মাত্র। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা তাকে জানান, এবিষয়ে তো কখনও আলোচনা বা স্বাক্ষরও করিনি। তাহলে রেজুলেশন হলো কি করে।

পরে রেজুলেশন খাতা দেখে তারা নিশ্চিত হন, তাদের স্বাক্ষর জাল করে এ রেজুলেশন করা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় গণ মাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং এলাকার লোকজন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি নাজমুন নাহার ও অন্যান্য সদস্যরা জানান, ওই রেজুলেশনে তারা স্বাক্ষর করেননি। কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান বাবু ও সহ সভাপতি আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে বলেন, এসব তারা কোন কিছুই জানেন না। অথচ তাদের স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম রেজুলেশন করে পুকুরটি লীজ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের কমিটি ও শিক্ষকগণ তার বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এসব অফিসের সাথে বসে মিমাংসা করা হয়েছে। এখন আর অসুবিধা নাই। ম্যানেজিং কমিটি রেজুলেশন করে পুকুরটি লীজ দিয়েছে। অথচ মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম নানা অপরাধের সাথে জড়িত। তার আচরন মাদক সেবীদের মত। স্থানীয়রা জানান, ইতিপুর্বে তার কাছে ইয়াবা ও মাদক পাওয়ায় বগুড়া কৈগাড়িতে পুলিশ তাকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কিছুদিন আগে মাদক সেবনকালে ভ্রাম্যমান আদালতেও তার শাস্তি হয়েছিল।
তার সম্পর্কে শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের শেষ নেই। তার ব্যাংক জালিয়াতি মামলা রয়েছে দুইটি। ২০১৮ সালে অপকর্মের কারনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর শাস্তিমুলক বদলী করা হয়েছে।

এরপরও প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন ও কর্মকান্ডে অবহেলা ও অসৌজন্যমুলক হওয়ায় গত দুই মাস যাবত তার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। তার জন্য শিক্ষক সমাজ কুলষিত। এসব কারনে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আরও অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।