যিলহজ মাসের ফযীলত এবং আমল

21
যিলহজ মাসের ফযীলত এবং আমল

আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক

সুপ্রভাত বগুড়া (ধর্ম ও জীবন): যিলহজ মাস অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ মাস। বিশেষকরে প্রথম দশদিন। কুরআন মজীদে সূরা ফজর – এ আল্লাহ তায়ালা যিলহজ মাসের দশরাত্রির কসম করে বলেন, “শপথ ফজরের, শপথ দশ রাত্রির। (আয়াত ১-২) এর দ্বারা যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের ফযীলত বুঝিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আর কোন ইবাদত নেই। এর প্রতিদিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য। আর প্রত্যেক রাত্রির ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমতুল্য।

বিশেষভাবে নবম তারিখ আরাফার দিনের রোযা। আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট আশা রাখি, আরাফার দিবসে রোযা রাখলে তিনি পিছনের এক বছর এবং সামনের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন। (তিরমিজি) অন্যত্র রয়েছে, যিলহজের প্রথম দশ রাত্রির কৃত আমলের সাওয়াব সাতশত গুণে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। (বায়হাকী) তবে যিলহজের প্রথম দশক উত্তম, না রমযানের শেষ দশক উত্তম, এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মুহাদ্দিসগণ সমন্বয় এনে বলেন, যিলহজের প্রথম দশ দিবস উত্তম। কেননা এতে আরাফার দিবস আছে। আর রমযানের শেষ দশ রজনী উত্তম। কারণ, তাতে লাইলাতুল কদর রয়েছে।

হযরত আনাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সাঃ) বলেন, যিলহজের প্রথম দশ দিনের প্রত্যেক দিন এক হাজার দিনের সমান এবং আরাফার দিন অর্থাৎ যিলহজের নবম দিন মর্যাদা এবং ফযীলতের ক্ষেত্রে দশ হাজার দিনের সমান। (ফয়জুল কালাম) এ মাসের আরেকটি আমল হলঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, আমি যদি মাদী ‘মানীহা’ ব্যতীত অন্য কোনো পশু না পাই, তবে কি তাই কুরবানী করব? নবীজি (সাঃÑ বললেন, না। কিন্তু তুমি কুরবানীর দিনে তোমার চুল ও নখ কাটবে, তোমার গোঁফ খাট করবে এবং নাভির নিচের কেশ মুন্ডন করবে, এটাই আল্লাহর নিকট তোমার পূর্ণ কুরবানী। (আবু দাউদ) আল্লাহ তায়ালা গরিবদের প্রতি কত মেহেরবান! যাদের কুরবানী দেওয়ার সামর্থ নেই, তাদের এ বিশেষ আমলটি সুবর্ণ সুযোগ মনে করে গুরুত্বসহ পালন করা উচিত।

যিলহজের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে চুল, নখ মোচ ও নাভির নিচের পশম কাটবে না। এরপর কুরবানীর দিনে কুরবানীর পরে তা কাটলে কুরবানীর সাওয়াব লাভ হবে। অবশ্য মুসলিম শরীফে যে ব্যক্তি কুরবানী করবে তার জন্য এ আমল বলা হয়েছে। আরেকটি বিশেষ আমল তাকবীরে তাশরীকের বিধানঃ ৯ই যিলহজের ফজর থেকে ১৩ই যিলহজের আসর নামাজ পর্যন্ত সর্বমোট ২৩ওয়াক্তে প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক একবার বলা ওয়াজিব।

জামায়াতে নামায হোক বা একাকী, পুরুষ হোক বা নারী সকলকে বলতে হবে। তাকবীরে তাশরীক এই- “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”। অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই। আর আল্লাহই সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, সকল প্রশংসা শুধু তাঁরই।

ঈদের রাতের ফযীলতঃ                                                                                                      যে ব্যক্তি ঈদের রাতে জাগরত থেকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবে, তাহলে যেদিন অন্যান্য দিল মরে যাবে, সেদিন তার দিল মরবে না। (মিশকাত) হজ¦ আদায়কারীকে ৮ই যিলহজ থেকে ১২ই যিলহজের মধ্যে হজ¦ পালন করতে হবে। এর আগে বা পরে হজ¦ করার কোন সুযোগ নেই।

কুরবানী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (বয়ান ও খুতবা) ঈদুল আযহার দিন এবং তারপরের তিন দিন মোট ৪দিন সব রকমের রোযা রাখা হারাম। আর এ দিনসমূহে খানা-পিনায় অতিরিক্ত জাঁকজমক করা উচিত। কেননা এটা শরীয়তের কাম্য।

ঈদুল আযহার দিন ১৩টি আমল সুন্নাতঃ                                                                                 (১) ভোরে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা।

(২) মিসওয়াক করা।

(৩) উত্তমরূপে গোসল করা।

(৪) যথাসাধ্য উত্তম পোশাক পরিধান করা।

(৫) শরীয়ত সম্মতভাবে সাজ-সজ্জা করা।

(৬) সুগন্ধি-আতর ব্যবহার করা।

(৭) কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া।

(৮) ফজরের পর যথাশীঘ্র ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া।

(৯) ঈদগাহে যাওয়ার সময় এই তাকবীর উচ্চস্বরে পড়তে পড়তে যাওয়া- “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”।

(১০) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া।

(১১) ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ পড়া। বিনা ওজরে মসজিদে না পড়া।

(১২) ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আযহার নামায আগে পড়া।

(১৩) ঈদগাহে এক পথে যাওয়া এবং অন্য পথে ফিরে আসা।