রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসন আরোহনের ৭০ বছর পূর্তিতে দেশে দেশে উৎসব

86
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসন আরোহনের ৭০ বছর পূর্তিতে দেশে দেশে উৎসব

ব্রিটেনের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন দিন। কারণ ৯৬ বছর বয়সি রানি ১৯৫২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত একটানা ৭০ বছর সিংহাসনে আসীন। এ সময়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রধানমন্ত্রীর পদ বদল হয়েছে ১৪ বার। দেশটির বহু শতাব্দী প্রাচীন রাজতন্ত্রের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসনে।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজা ষষ্ঠ জর্জের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তার কন্যা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সে হিসাবে গত ফেব্রুয়ারিতে রানির শাসনকালের ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু বাবার মৃত্যুর মাসে বর্ষপূর্তি পালন করতে চাননি রানি। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে জুন মাসকেই উদ্‌যাপনের জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, রানির সিংহাসনে আরোহনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘কুইন’স প্লাটিনাম জুবিলি’ উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ব্রিটেনে ও কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে বৃহস্পতিবার (২ জুন) থেকে শুরু হয়েছে রাজকীয় উদ্‌যাপন, যা শেষ হবে আগামী রোববার (৫ জুন)। রানির শাসনামলের প্লাটিনাম জুবিলি উপলক্ষ্যে চারদিনের ছুটি চলছে যুক্তরাজ্যে।

দিনের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয় ‘ট্রুপিং দ্য কালার’ নামের এক ঐতিহ্যবাহী সামরিক প্যারেড দিয়ে। এতে ১ হাজার ২০০ সেনা, ২০০ ঘোড়া ও সেনাবাহিনীর শত শত বাদ্য-যন্ত্রশিল্পী অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানের শুরুতে লন্ডনে বাকিংহাম প্রাসাদের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানের ফ্লাইপাস্টের সময় রানি ও রাজপরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাসাদের বারান্দায় উপস্থিত হন। এরপর ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও কমনওয়েলথ দেশগুলোর রাজধানীতে মশাল প্রজ্বালনের মতো আরও বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে।

এদিকে প্লাটিনাম জুবিলির অনুষ্ঠান দেখতে লন্ডন শহরে পৃথিবীর বহু দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ ঐতিহ্যবাহী রীতিতে রাস্তার ওপর টেবিল পেতে পার্টি করে রানি এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন করবেন।

এসব অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য রানি এলিজাবেথ এক বার্তায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, তার প্রতি দেখানো এ শুভেচ্ছায় তিনি অনুপ্রাণিত বোধ করছেন। এ উপলক্ষ্যে বার্তা পাঠিয়ে রানিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ সামোয়া ও টোঙ্গা থেকে মশাল প্রজ্বালন শুরু হবে এবং শেষ হবে ১৯ ঘণ্টা পর দক্ষিণ আমেরিকার বেলিজে।

আগামী চারদিন দেশটিতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজপরিবার ছাড়াও ‘জুবিলি পার্টি’ সফল করতে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ও। এরই মধ্যে উদ্‌যাপন শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক স্টোনহেঞ্জে। ১৯৫৩ সালে রানির অভিষেকের সময়ের ছবি প্রজেক্টরের সাহায্যে তুলে ধরা হয়েছে পাথরের গায়ে।

শুক্রবার (৩ জুন) সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রালে থাকছে ‘থ্যাংকস গিভিং সার্ভিস’। এতে রাজপরিবারের সবাই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে রানির ছোট ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রু করোনা আক্রান্ত হওয়ায় উপস্থিত থাকবেন না জানানো হয়েছে।

পরদিন শনিবার (৪ জুন) ‘এপসম ডাউনস’-এ সপরিবারে ডার্বি দেখতে যাবেন রানি। ওই দিনই বাকিংহাম প্রাসাদে এক বিশেষ পার্টিরও আয়োজন থাকছে। যেখানে যোগ দেবেন গায়ক এড শেরনের মতো সংগীত জগতের অনেক তারকা। ওই অনুষ্ঠানে অন্তত ২২ হাজার অতিথির যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

এরপর রোববার (৫ জুন) থাকছে ‘বিগ জুবিলি লাঞ্চ’। বিভিন্ন এলাকায় বড় টেবিল পাতা হবে সেদিন। পিকনিকের আমেজে প্রতিবেশীদের সঙ্গে খাবার ও পানীয় ভাগাভাগি করে নেবেন এলাকাবাসী। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী হতে নাম লিখিয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার ইংল্যান্ডবাসী।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক কোটি মানুষ ওই জুবিলি লাঞ্চে অংশগ্রহণ করবেন। শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, জুবিলি লাঞ্চের আয়োজন হবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোসহ বিভিন্ন দেশে। এসব দেশের তালিকায় রয়েছে নিউজিল্যান্ড, কানাডা, ব্রাজিল, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ড।

এরপর রোববারই (৫ জুন) আয়োজন করা হবে সবচেয়ে বড় আয়োজন—‘জুবিলি পেজেন্ট’। এ আয়োজনের সামনে থাকবে রানির রাজকীয় রথ। তবে বয়সের কারণে রানি রথে থাকবেন না। এর পরিবর্তে রানির রাজ্যাভিষেকের পর গত ৭০ বছরে তার জীবনের নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রজেক্টরের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হবে ওই ঘোড়ার গাড়ির জানালায়।

ওই পেজেন্টের অংশ ‘রিভার অব হোপ’-এ যোগ দিতে যুক্তরাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আসবে শিক্ষার্থীরা। আগামী ৭০ বছরে বিশ্বের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কী কী আশা করছে, তা ২০০টি সিল্কের পতাকায় তুলে ধরবে তারা। শিক্ষার্থীদের সে মিছিল চলন্ত নদীর মতো দেখাবে বলে এ আয়োজনের নাম দেয়া হয়েছে ‘রিভার অব হোপ’ বা ‘আশার নদী’। এ ছাড়া প্লাটিনাম জুবিলির সাজে সেজে উঠেছে বিখ্যাত টাওয়ার অব লন্ডনও।