রাবির ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামীকাল

84
রাবির ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামীকাল

সুপ্রভাত বগুড়া (শিক্ষা-সাহিত্য): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামীকাল মঙ্গলবার। এ দিন সকালে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে না-কি সরাসরি অংশগ্রহণে নেওয়া হবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের বাইরের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ও অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এসবে যাচ্ছে না। গুচ্ছ পদ্ধতিতে না গিয়ে এককভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে পরীক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। সেজন্য অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ে অনলাইনে না-কি শিক্ষার্থীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা দেবেন সে বিষয়ে আলোচনা হবে মঙ্গলবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায়। সভায় সদস্যদের দেওয়া মতামতের ওপর নির্ভর করে সে প্রক্রিয়ায় ভর্তি নিতে প্রস্তুতি রাখবে রাবি প্রশাসন ও রাবি ভর্তি কমিটি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, অনুষদ ডিন ও সিনিয়র অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের সরাসরি হলে উপস্থিত রেখে অর্থাৎ পুরনো নিয়মেই পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে চিন্তা করছেন।

অনলাইনে অ্যাপসের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়াকে তারা ঝুঁকি মনে করছেন। তবে করোনার প্রকোপ ভয়াবহ হলে সেবিষয়ে পরে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য তাদের। অনেকের মতে- প্রয়োজনে শীতের সময়টা অপেক্ষা করে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। আবার অনেকের মত- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলের ওপর ভিত্তি করে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরীক্ষার আয়োজন করার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘করোনার কারণে যদি একেবারেই পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ না হয়, সেক্ষেত্রে অনলাইন বিবেচনা করা যেতে পারে।

আরো সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়াটা অনেক ঝুঁকি; করোনাও ঝুঁকি। প্রয়োজনে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে অল্প সংখ্যকের পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।’ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক হুমায়ন কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। সেজন্য আরও কয়েকটি দিন অপেক্ষা করা দরকার। যদি মনে হয় শীতে করোনার প্রকোপ বাড়েনি তাহলে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে।

কিন্তু যদি প্রকোপ বাড়ে সেক্ষেত্রে সময় পিছিয়ে পরীক্ষা নিতে হবে। সশরীরে অর্থাৎ হলে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে এমনটাই মত আমার।’ একইদিকে ঝুঁকছেন রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘অনলাইন পরীক্ষায় আমরা অভ্যস্ত না। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ততটা দ্রুতগতির না, তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কিভাবে পরীক্ষা দেবে? তাছাড়া অনলাইন পরীক্ষা কতটা নিরাপদ সেবিষয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। সবকিছু করোনার ওপর নির্ভর করছে।’