রামগড়ে করোনায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন

78

সুপ্রভাত বগুড়া (এমদাদ খান রামগড় ,খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা ৬ টি প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রায় ১৯৮.০৬ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এখানে মুসলিম, হিন্দু, মারমা, ত্রিপুরা, খ্রিষ্টান, বড়ুয়া, চাকমা ও অন্যান্য জাতি সহ প্রায় ৫০৭৪৪ জন মানুষের বসবাস। শিক্ষার হার ৪৪.৯০℅।এখানে অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত ও দরিদ্র হওয়ায় তারা সচেতনতার প্রতি একটু উদাসীন।

ফলে উপজেলা প্রশাসনের করোনা মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। রামগড় উপজেলা কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম গুলো ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজীব কান্তি রুদ্র নিরলসভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, বাজার মনিটরিং করা সহ প্রবাসীদের কোয়ারান্টিনে রাখার কাজ তদারকি করে যাচ্ছেন।

তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ৬৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করেছেন। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাগন ত্রাণ বিতরণে সরাসরি অংশগ্রহন,কখনো ত্রাণ বিতরণে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন, যাচাই-বাছাই করে দরিদ্রদের তালিকা প্রস্তুত করা, মৃত ব্যক্তিদের দাফনের কমিটি করাসহ অন্যান্য কাজ করে যাচ্ছেন।

রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃমনসুর আলীর তথ্যমতে রামগড় উপজেলা প্রশাসন ১০ ই মে পর্যন্ত১৩৪৮৫ টি পরিবার,সমিতির সদস্য, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মসজিদ,মাদ্রাসা, ধর্মীয়, ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ১৩৪.৮৫০ মেট্রিকটন ত্রাণ (খাদ্য) সহায়তা দিয়েছেন। ১৫০টি পরিবারকে শিশু খাদ্য প্রদান করেন ।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজীব কান্তি রুদ্র প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছি। অনেক সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাও করেছি। তবে আশার বাণী হচ্ছে, আমরা যদি আরেকটু সচেতন হই তাহলে করোনা সংক্রমণ হতে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারবো। আমাদের নিজেদের সুস্থ্যতা নিজেদের হাতে।

পার্বত্য অঞ্চলে ঘনবসতি কম হওয়ায় এখানে এক বাড়ি হতে আরেক বাড়ির দূরত্ব অনেক বেশি, এখানকার মানুষ অনেক কর্মঠ ও শারীরিকভাবে পরিশ্রমী । স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাক সবজি ও ফলমূলের প্রাচুর্য থাকায় এই অঞ্চলের মানুষের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি । এখানে শুধু বাজার ও গণজমায়েতপূর্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্বটা নিশ্চিত করতে পারলে করোনাকে আমরা সহজ ভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জামান এর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, সাপ্তাহিক বাজার পরিদর্শন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা , উপজেলায় আগন্তুকদের যাচাইয়ের জন্য চেকপোস্ট স্থাপন, হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখাসহ এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া গুইমারা সেনা রিজিওনের আওতাধীন সিন্ধুকছড়ি জোনের ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্টের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিতভাবে উপজেলার বাজার এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে,মাস্ক বিতরণ, জনসচেতনামূলক প্রচার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

করোনা দূর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশিষ্ট সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন লাভলু বলেন,করোনা মোকাবিলায় রামগড়ে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে রামগড়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেহেতু করোনা আক্রান্ত রুগী সনাক্ত হয়েছে এ অবস্থায় প্রশাসন এখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর ভুমিকায় যাওয়া দরকার।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, সরকারি ত্রাণ বিতরণে জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সুষম বন্টন ও স্বচ্ছতার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করা অপরিহার্য।

রামগড় উপজেলা ও পৌরসভায় সরকারি বরাদ্দকৃত খাদ্য শস্য এবং নগদ টাকার তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিজস্ব ফেসবুক আইডির মাধ্যমে প্রকাশ করলে জনসাধারণ অবগত থাকবে, সরকারের কার্যক্রমও প্রচার পাবে। সর্বোপরী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। আজ পর্যন্ত রামগড় উপজেলা করোনামুক্ত থাকায় প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন এলাকার সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের জনগণ।