করোনায় দেশে চাকরি হারিয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক

26
করোনায় দেশে চাকরি হারিয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক। ছবি-সংগ্রহ

সুপ্রভাত বগুড়া (চাকুরী ও কর্মসংস্খান): করোনা দুর্যোগে দেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় প্রায় অর্ধ লক্ষ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এদের মধ্যে মাসখানেকের মধ্যেই ছাঁটাই হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি, অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনগুলোর। রপ্তানি অর্ডার কমার অজুহাতে জনবল কমানোয় ছাঁটাই আতঙ্কে পোশাক কর্মীরা।

তবে, বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, ৩৫/৪০ লাখ শ্রমঘন শিল্পে কয়েক হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বড় ঘটনা নয়। মালিকরা বাধ্য হয়ে ছাঁটাই করলেও সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রায় সব শ্রমিকই কাজে ফিরতে পারবে, আশা সংগঠনটির সহ-সভাপতি আরশাদ জামালের। দেশে ভাইরাস হানা দেয়ার পর থেকে কমছে পোশাক শিল্পের রপ্তানি।

করোনার মন্দায় তিন মাসে এ খাতের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে ৩১৮ কোটি ডলারের। এতে কমছে আয়, এমন অজুহাতে বিভিন্ন কারখানায় চলছে শ্রমিক ছাঁটাই। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচে বেশি দুই হাজার আটশ’ কর্মী ছাঁটাই করেছে উইন্ডি গ্রুপের দুই কারখানা উইন্ডি অ্যাপারেলস ও সেতারা গার্মেন্টস।

অন্য গার্মেন্টসের মধ্যে বভস অ্যাপারেলস আড়াই হাজার, ভিশন অ্যাপারেলস পাঁচশ’, লোডস্টার সাড়ে তিনশ’, মেডলার তিনশ ৪৫ জন, আইএফএল ২৪৫ এবং ভার্সেটাইল গার্মেন্টস ৩শ’ শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। তালিকায় আছে বিজিএমইএ বর্তমান এক সহ-সভাপতির মালিকানাধীন ডিবিএল গ্রুপের জিন্নাত ফ্যাশন এবং ফ্লামিঙ্গো ফ্যাশনের নাম।

এ দু’টি কারখানায় ছাঁটাই হয়েছে আড়াইশ’ শ্রমিক। শান্তা গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় চাকরি গেছে সাতশ শ্রমিকের। চাকরিচ্যুত হয়েছেন ইউরোজোন ফ্যাশনের ১৪৫ জন এবং আলট্রা এমব্রয়ডারির ১২০ পোশাক কর্মী। এর বাইরে, ৫ থেকে পাঁচশ’ জন ছাঁটাই করা কারখানার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। শ্রমিক ছাঁটাই করা কারখানার তালিকায় আছে লূইটেক্স, বিমটেক্স, রেজা ফ্যাশন, স্টার্লিং ক্রিয়েশন, রোজ ইন্টিগ্রেট, ট্রাউসারলাইন, এবি ফ্যাশন, হামিম, ওয়েমার্ক ও ফোরউইংস কোম্পানির নাম।

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে আজিম গ্রুপ তার দুই কারখানার পাঁচশ শ্রমিক এবং ওয়েল গ্রুপ শতাধিক কর্মী বিদায় করেছেন। এখনো চাকরি হারানোর আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে ডেকো গ্রুপের মতো গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার অনেক পোশাক শ্রমিককে। দেশজুড়ে গার্মেন্টস কর্মী ছাঁটাইয়ের এমন ইঙ্গিত অবশ্য জুনের শুরুতেই দিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক্। কর্মী ছাঁটাইয়ের এ তালিকা পূর্ণাঙ্গ না হলেও করোনায় বাদ পড়া শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধ লাখের কম নয়, দাবি শ্রমিক সংগঠনগুলোর।

তবে, এ সংকটেও কর্মী ছাঁটাই না করা পোশাক কারখানার সংখ্যাই বেশি। নিজ কারখানার কোনো শ্রমিকের চাকরি না গেলেও বিজিএমইএ সহসভাপতি আরশাদ জামাল জানিয়েছেন, শোচনীয় অবস্থায় কোনো উপায় না পেয়ে শ্রমিক ছাঁটাইতে বাধ্য হয়েছেন কেউ কেউ।

শ্রমিক ছাঁটাইর ঘটনায় মাঝেমধ্যেই বিক্ষোভ হচ্ছে বিভিন্ন কারখানায়। তবে, বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, শিগগিরই সংকট কাটিয়ে সরূপে ফিরবে পোশাক খাত। তাই কিছুদিন বেকার থাকলেও সব শ্রমিকই তিনমাসের মধ্যে কাজে ফিরবেন এমন আশ্বাস কারখানা মালিকদের।