লকডাউনের মধ্যেই বর-কনে মাস্ক পরে বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে !

92

সুপ্রভাত বগুড়া ডেস্ক: মহামারি করোনাভাইরাসের দাপটে বিপর্যস্ত পুরো দুনিয়ার মানুষ। তবুও লকডাউনের মধ্যেই বিয়ের পিঁড়িতে বর-কনে মাস্ক পরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। বর-কনে থেকে শুরু করে পুরোহিত সকলের মুখেই মাস্ক ছিল।

বিয়েতে যে কয় জন আত্মীয়স্বজন আসলেন তাদের মুখেও ছিল মাস্ক। ভারতের বারাসতে ঘটেছে এই বিয়ের ঘটনা। লকডাউনের বাজারে শেষমেশ চার হাত এক করতে পেরে মুখে যেন বিশ্বজয়ের হাসি বর সঞ্জয় দাসের। খুশি নববধূ শ্যামাশ্রীও। জানা যায়, লকডাউনের কারণে পরপর দুই বার বিয়ের ডেট বাতিল করতে হয়েছিল।

এভাবে চললে যে ছাদনাতলায় যাওয়াই হবে না! মনে যেন এমনই ভয় ধরেছিল সঞ্জয়ের। অথচ পাত্র হিসেবে সঞ্জয় দাস মোটেই ফেলনা নন। বারাসতে নিজস্ব বাড়ি আছে। বিএসএনএলে চাকরি করেন। তাই লকডাউনের চতুর্থ পর্বে বজ্র আঁটুনি একটু হালকা হবে ধরে নিয়ে আগেই পাত্রীকে শেওড়াফুলির বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিলেন।

স্কুটিতে চাপিয়ে নিয়ে এসেছিলেন হবু শাশুড়িকেও। তারপর সকলকে নিজের ফ্ল্যাটে সাত দিন রেখে ১৮ তারিখ শুভদিন দেখে বিয়েটা সেরে ফেললেন সঞ্জয় দাস।গত ১৭ এপ্রিল প্রথমে বিয়ের দিন স্থির হয়েছিল। কার্ড ছাপানো থেকে নিমন্ত্রণ সবই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাধ সাধল লকডাউন।

এপ্রিলের বিয়ে বাতিল হল। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, ৮ মে আরো একটি বিয়ের তারিখ রয়েছে। এবার সেই দিন বিয়ে ঠিক হল। সকলেই নিশ্চিত ছিলেন তার আগে লকডাউন উঠে যাবে। ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দিতে হরিয়ানা সরকার থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে গাড়িতে দেড় হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেন সঞ্জয়ের ভাই বিজয় দাস।

কিন্তু সে যাত্রায় বিয়েটা করা যায়নি। আবার খোঁজ পড়ে বিয়ের তারিখের। এবার দেখা যায়, ১৮ মে বিয়ের তারিখ রয়েছে। কিন্তু সরকারের ভাবগতিক দেখে সঞ্জয়ের সন্দেহ ছিল ১৮ মে-র মধ্যেও লকডাউন উঠবে না। তবে কড়াকড়ি অনেক শিথিল হতে পারে। কিন্তু বিয়ের দিনেই যদি কোনো ঝামেলা হয় ?

কে জানে যদি ১৮ তারিখ শেওড়াফুলি থেকে বারাসতে পাত্রীপক্ষ পৌঁছাতে না পারে? তাই কোনো ঝুঁকি নেননি। হবু বউকে দিন সাতেক আগেই নিয়ে চলে আসেন বারাসতে। বিয়ের পর সঞ্জয় দাস জানান, আমার বিয়ে নিয়ে কম ঝামেলা পোহাতে হল না। পরিবার থেকে বন্ধুবান্ধব সকলেই চেয়েছিলেন যে বিয়েটা ধুমধাম করে হোক।

কিন্তু কী আর করা যাবে। শেষমেশ যে বিয়েটা হয়েছে, এটাই তো অনেক। আমার বউ শ্যামাশ্রীও খুব উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল। বিয়েটা সারতে পেরে আমরা এবার নিশ্চিত হতে পেরেছি। সূত্র: এই সময়।