শাজাহানপুরে দরিদ্রদের না দিয়ে স্কাউটদের ত্রান দিল আশা এনজিও

170

সুপ্রভাত বগুড়া (আবদুল ওহাব শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: আশা এনজিও সমাজে দারিদ্রতা দুর করণে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেও করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) দুর্যোগ কালীন সময়ে বগুড়ার শাজাহানপুরে তাদের ত্রানগুলো অসহায় দুস্থ ও হত দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেনি।

দেয়া হয়েছে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও স্কাউটদের। সংগত কারনে অভিযোগ উঠেছে, দরিদ্ররা অনাহারে অর্ধহারে থেকে কিস্তি পরিশোধ করলেও তাদের দিকে এনজিওটির মানবিক দৃষ্টি পড়েনি এতটুকুও।

বৃহঃবার ১৪ মে এভাবে আশা এনজিওর ত্রানগুলো দরিদদের না দিয়ে ছাত্র ছাত্রী ও স্কাউটদের মাঝে বিতরণ করার পর এনজিওটি থেকে ঋণ গ্রহীতারা এসব তথ্য জানান।

তারা জানান, জীবন এবং জীবিকার তাগিদে গ্রামের দরিদ্ররা আশা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন করে। অনাহারে অর্ধাহারে থেকেও কিস্তির টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাস দুর্যোগকালীন এ সময়ে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

একদিকে পেটের ক্ষুধা নিবারণের চিন্তা আরেক দিকে এনজিও থেকে নেয়া টাকাগুলোর কিস্তি পরিশোধ করার ভাবনা। এভাবে সন্তানাদী নিয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

এবিষয়ে উপজেলার আশা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহীতা সাজাপুর গ্রামের মোমিন মিয়ার স্ত্রী শামিমা (৪), আবু সাঈদের স্ত্রী রওশন আরা (৩৬), ইউসুফ মিয়ার ছেলে মতিন (৪০), শাহীন আলমের স্ত্রী সুমাইয়া (৩৭), ইদ্রিস আলীর স্ত্রী তাসলিমা (৩৭) সহ অনেক সদস্য জানান, শত কষ্ট করে হলেও কিস্তির টাকা পরিশোধ করি।

কিস্তির টাকা দিতে একটু বিলম্ব হলে বাড়িতে ঝড় তোলে। এনজিও তাদের কষ্ট দেখেনা চিনে শুধু টাকা।

কিন্তু বর্তমানে করোনা মহামারী এই পরিস্থিতিতে উপার্জন না থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। কিভাবে কিস্তি দেব সে ভাবনায় দিন কাটছেনা। এতো কষ্ট হলেও আশা এনজিওর কেউ কোনদিন খোজও নেয়নি কোন ত্রান সহায়তাও করেনি।

কিন্তু এমন সময়ে কারো এতোটুকু সহযোগিতা জীবনে বিশাল পাওয়া। তথাপি আশা এনজিও ত্রান সামগ্রীগুলো তাদেরকে না দিয়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী ও স্কাউটদের দিয়েছে। এমন আচরণ সত্যিই বেদনাদায়ক।

তবে ত্রানগুলো আশা এনজিওর ঋণ গ্রহীতা বা দরিদ্রদের না দিয়ে স্কাউটদের মাঝে বিতরণ করার কারন জানতে চাইলে আশা এনজিও শাজাহানপুর উপজেলা শাখার ম্যানেজার মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান,

দরিদ্রদের মাঝে সুষ্ঠু বন্টন ও সরকারকে সহােযাগিতা করার জন্য ২০০ প্যাকেট ত্রান সামগ্রী আশা এনজিওর পক্ষ থেকে তিনি শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদে হস্তান্তর করেছেন। সেখান থেকে তো গরীবদেরই দেয়া হচ্ছে।

এদিকে এমন কর্ম পরিকল্পনায় দুর্যোগকালীন এসময়ে সমাজে অভাব অনটন বা দারিদ্রতা দুর করণে আশা এনজিও কতটুকু আশার আলো জ্বালাতে পেরেছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন সচেতন মহল।