শাজাহানপুরে রোগীর মৃত্যু নিয়ে ট্রাজেডি, সাইনবোর্ড খুলে লাপাত্তা ক্লিনিক!

1763

সুপ্রভাত বগুড়া (আবদুল ওহাব শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি): বগুড়ার শাজাহানপুরে রোজিনা (২০) নামে এক গর্ভবতী নারীর সিজার করে বাচ্চা ডেলিভারী করার পর মৃত্যু হয়েছে। এই অনাকাংখিত মৃত্যু উপজেলায় ট্রাজেডির জন্ম দিয়েছে। নিহত নারী উপজেলার তালপুকুর গ্রামের মাহমুদ আলীর মেয়ে।

মঙ্গলবার ১২ মে জানাযায়, সি-ব্লক (ম্যাক্স টাওয়ার) বসুন্ধরা ক্লিনিকে তার সিজার করা হয় এবং রাতে মৃত্যু হয়। ঘটনার বিবরণে জানাগেছে, উপজেলার তালপুকুর গ্রামের মাহমুদ আলীর গর্ভবতী মেয়ে রোজিনা (২০) কে ডেলিভারীর জন্য কয়েকদিন আগে বসুন্ধরা ক্লিনিকে ভর্তি করলে তাকে সিজার করা হয়।

নিহত নারীর পিতামাতা জানান, বসুন্ধরা ক্লিনিকে তাদের মেয়েকে প্রথমে সিজার করার পর বিছানায় নিয়ে আসে। কয়েক ঘন্টা পর, সিজারে সমস্যা থাকার কথা বলে আবারও তাকে অপারেশন রুমে নিয়ে কিছুক্ষন পর বের করে এনে রোগীর অবস্থা ভাল না বলে জানায় এবং তাড়াতাড়ি বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়।

তাদের কথামত দ্রুত সেখানে নিয়ে গেলে, সঠিকভাবে সিজার করা হয়নি বলে জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ডাক্তার জানায়। এরপর রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং কয়েক দিন চিকিৎসার পর ১১ মে রোজিনার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১২ মে বসুন্ধরা ক্লিনিকে গেলে দেখাযায়, ক্লিনিকটিতে ডাক্তার, নার্স কেউ নেই, সরঞ্জামাদী নিয়ে এবং সাইনবোর্ড খুলে লাপাত্তা হয়েছে বসুন্ধরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। সেখানকার কেয়ারটেকার আকবর আলী জানান, এটি ম্যাক্স ক্লিনিেিকর একটি শাখা ছিল। গত ২ মাস আগে বসুন্ধরা ক্লিনিক নামে চালু করে এবং ১১ মে রাতে সব সরঞ্জাসাদী নিয়ে কর্তৃপক্ষ চলে গেছে।

এবিষয়ে শাজাহানপুরের বি-বøকে অবস্থিত ম্যাক্স ক্লিনিকের পরিচালক আবদুল মান্নানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বসুন্ধরা ক্লিনিকটি ম্যাক্সের কোন শাখা না। তবে কামাল এবং রউফ নামে দুইজন লোক ওই ক্লিনিক করেছিল বলে জানি। ম্যাক্স পরিচালক কমিটির আরেক সদস্য আবদুর রউফ জানান, বসুন্ধরা ক্লিনিকটি তাদেরই ম্যাক্স ক্লিনিক এর শাখা।

তিনি আরও জানান, বগুড়া শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর গাইনী সার্জন ডাক্তার সেলিমা খাতুন ওই সিজারটি করেছিলেন। এবিষয়ে জানার জন্য তার নিকট ফোন দিলে তিনি সিজার করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিজারে কোন অসুবিধা হয়নি।

প্রতিবেশীরা জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিলে সংবাদ পেয়ে বসুন্ধরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের একজন রাতেই নিহতের বাড়িতে আসে। হাজির হয় জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার টাউটরা। কয়েক ঘন্টা আলাপ আলোচনার পর তারা চলে যায়।

এরপর বসুন্ধরা ক্লিনিকটির সকল সরঞ্জমাদী নিয়ে রাতেই লাপাত্তা হয় ডাক্তার নার্স আয়া ও কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের কৌতুহলের শেষ নেই। তারা বলছে, সিজারে যদি কোন অসুবিধা না হয়ে থাকে তাহলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিহতের বাড়ি গিয়ে কি আলোচনা করলো ?

এরপর নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার পর থেমে গেল কি কারনে ? আবার সিজারে যদি কোন সমস্য না হয়ে থাকে বা ক্লিনিকটির ডাক্তার ভুল চিকিৎসা না করে থাকে, তাহলে সেখানকার ডাক্তার, নার্স এবং কর্তৃপক্ষ ওই দিনই রাতের আধারে সাইনবোর্ড খুলে সরঞ্জামাদী নিয়ে লাপাত্তা হলো কেন ? ফলে রহস্যে ভরা এই প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনা মোড় নিয়েছে ট্রাজেডিতে।

এদিকে ক্লিনিকটি সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, প্রায় মাস দু‘য়েক আগে আলাউদ্দীনের অলৌকিক চেরাগের মত হঠাৎ করে গড়ে উঠে “বসুন্ধরা ক্লিনিক”। নিজস্ব দালাল ও এজেন্টদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় রোগী। সুবিশাল চাকচিক্য ভরা সাইনবোর্ড দৃষ্টি কাড়ে এলাকার জনসাধারনের। শুধু তাই নয়, মাইকিং ছাড়াও দালাল ও এজেন্টদের মাধ্যমে মনোমুগ্ধকর আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বিলিত ক্লিনিকের প্রচারণা চালায় এলাকা জুড়ে। ফলে ভর্তি হতে থাকে রোগী।

এমন পরিস্থিতিতে ক্লিনিকিটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাক্স পরিচালক কমিটির সদস্য আবদুর রউফ জানান, অনুমোদন পাইনি তবে আবেদন করা আছে। এভাবে প্রকাশ্যে অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে উপজেলার সি- বøকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে পরিচালিত হয়ে আসছিল ‘বসুন্ধরা ক্লিনিক”।

সংগত কারনে এলাকার মানুষের দাবী- অনুমোদনহীন হলেও কাদের কল-কবজায় ক্লিনিকটি পরিচালিত হলো ? বিষয়টি আপেষ মিমাংসা হলেও প্রকৃত ঘটনা কি ? সে রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন।