শিবগঞ্জে খাদ্য কর্মকর্তাকে জিম্মির ঘটনায় আটক ৭, রিমান্ডে শেষে আটকৃতদের কোর্টে প্রেরণ

198
শিবগঞ্জে খাদ্য কর্মকর্তাকে জিম্মির ঘটনায় আটক ৭, রিমান্ডে শেষে আটকৃতদের কোর্টে প্রেরণ । ছবি-দৌলত

সুপ্রভাত বগুড়া (এস এম দৌলত): বগুড়ার শিবগঞ্জে খাদ্য কর্মকর্তাকে জিম্মির ঘটনায় আটক ৭ জন আসামীকে ৩ দিনের রিমান্ডে শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজুতে প্রেরণ করা হয়েছে।

থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন সরকার গত ১ জুন বিকালে শিবগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান কালী সময়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা রিভার্স করে অফিসের কাজ সেরে বগুড়ায় বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে ভাড়া করে।

তিনি অটোরিক্সায় চড়ে যাওয়ার সময় একই স্থান থেকে বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে অজ্ঞাত দুইজন মহিলা নাগর বন্দর যাওয়ার কথা বলে সিএনজিতে উঠে । পথিমধ্যে অজ্ঞাত একজন পুরুষ (২৮) অটোরিক্সাটিতে উঠে ড্রাইভারের পার্শ্বে সিটি বসে । বৃষ্টির কারণে সিএনজি অটোরিক্সার পর্দা লাগিয়ে দেয়। সিএনজি অটোরিক্সা চলতে থাকাবস্থায় ২শত গজ দূরে এগুতেই বাদীর পাশে বসে থাকা অজ্ঞাত দুইজন মহিলা ও একজন পুরুষ একত্রে বলে যে, কোন চিৎকার করবি না।

চিৎকার করলে তোর মান সম্মানের হানি ঘটাবো। এই কথা বলে তারা ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রে মুখে জিম্মি করে খাদ্য কর্মকর্তাকে উপজেলা সদর থেকে ৮/১০ কিলো দূরে একটি অজ্ঞাত বিল্ডিং বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ওই খাদ্য কর্মকর্তাকে বিল্ডিং বাড়ির ভিতরে আটক রাখে।

এসময় এক নারীকে রুমের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে নারী ঘটিত ব্যাপারে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা খাদ্য কর্মকর্তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করে। এসময় তারা ছবি ও ভিডিও গুলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি সহ প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে, ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে।

এসময় চক্রের সদস্য একটি সোনালী ব্যাংকের চেক এর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা লিখে নেয় ও বিকাশের মাধ্যমে ২টি নম্বারে ৩৫ হাজার টাকা নেয় এবং তার পকেটে থাকা ২৩শত টাকা সহ মোট ৪৭ হাজার ৩শত টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় খাদ্য কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

মামলার প্রেক্ষিতে শিবগঞ্জ সার্কেল কুদরত-ই-খোদা শুভ ও শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ ৪ ভাগে বিভিক্ত হয়ে অভিযান চালিয়ে ১০ ঘন্টার ব্যবধানে এ চক্রের ৭ জনকে আটক করে।

আটকৃতরা হলো নাটমরিচাই গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এর ছেলে মাসুদ রানা (২৬), একই গ্রামের আঃ মান্নান এর ছেলে শাকিল আহম্মেদ, মীরের চক গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে বিপুল আকন্দ (৩০), সংসারদিঘী গ্রামের নাছের উদ্দিন এর স্ত্রী তানজিলা বেগম (২৬), একই গ্রামের নাছের উদ্দিন এর স্ত্রী মাহফুজা বেগম (৩৫),

নাটমরিচাই গ্রামের দুলু মিয়ার কন্যা সাথী বেগম (৩৫), সংসারদিঘী পশ্চিম পাড়া গ্রামের সোহরাব এর ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)। গত ০২ জুন শিবগঞ্জ থানা পুলিশ এ চক্রের সদস্যদের বিজ্ঞ আদালত থেকে ৩ দিনের রিমান্ড নিয়ে আসে।

রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার আটকৃতদের জেল হাজুতে প্রেরণ করা হয়।আসামী প্রেরণের পূর্বে শিবগঞ্জ সার্কেল কুদতর-ই-খোদা শুভ গণমান্য কর্মীদের মাঝে প্রেস রিলিজ প্রদান করে তিনি জানান, ৩ দিনের রিমান্ডে শেষে আটকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপন্ন তথ্য ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

০৪ জুন রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজুতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন এ অপারাধের সাথে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন জড়িত আছে। তাদেরকে অচিরেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।