সত্যিকারে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা ও বিপণন কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

110
সত্যিকারে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা ও বিপণন কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

সুপ্রভাত বগুড়া (বৃষি সংবাদ): কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৮ কোটি টাকা। এ টাকা ব্যয়ে জনগোষ্ঠী কী সুফল পেল তা জানাতে হবে। এ ব্যাপারে সবাইকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি বলেন, সত্যিকারে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা ও বিপণন কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। যেখানে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের অবহিতকারণ সভায় এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। এসময় মন্ত্রী বলেন, পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারলেই মেধাবী জাতি গড়ে উঠবে। আর তখনই অভিনব সব প্রযুক্তি-উদ্ভাবন সম্ভব হবে।

পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে ব্যয়-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার তাগিদ দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে যান্ত্রিকীকরণের ওপর জোর দিতে হবে। তাজা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করে শক্তিশালী একটি বাজার কাঠামো গড়ে তুলে তুলতে হবে ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে নরসিংদী সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির যোগান নিশ্চিত করতে নরসিংদী সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ৩২টি করে মোট ৪৪৮টি পারিবারিক পুষ্টিবাগান করা হয়েছে। আর এসব বাগান গড়ে তুলতে বেড়া ও মাচা বাবদ মোবাইল ব্যাংকিং’র মাধ্যমে ১ হাজার ৯৩৫ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া, লালতীরের ১২ ও বিএডিসি’র ৪ ধরনেরসহ মোট ১৬ ধরনের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের ব্যাপারে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ৫৩ লাখ বসতবাড়ি রয়েছে। এসব বসতবাড়ির অধিকাংশ জায়গা অব্যবহৃত ও পতিত পড়ে থাকে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধীন বসতবাড়ির অব্যবহৃত জমিতে ১০০টি করে অর্থাৎ মোট ৪ কোটি ৮৮ হাজার ৪০০টি সবজি, ফল ও মসলা জাতীয় ফসলের পারিবারিক পুষ্টিবাগানের প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে।

বসতবাড়ির স্যাঁতস্যাতে জমিতে কচুর জাতীয় সবজির ৭ হাজার ৩৮০টি প্রদর্শনী, বসতবাড়ির ছায়াযুক্ত স্থানে আদা বা হলুদ চাষের ৭ হাজার ৩৮০টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে। জমিতে বর্তমানে জৈব সারের অভাব রয়েছে। মাটির উর্বরতা নিশ্চিত করা ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে ডিপিপিতে ১০০টি উপজেলায় একটি করে কমিউনিটি বেইজড ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন পিট স্থাপনের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় স্বল্প সময়ে সবজি সংরক্ষণের জন্য ক্ষুদ্র আকারে দেশজ পদ্ধতির বিদ্যুৎবিহীন ৬৪টি কুল চেম্বার স্থাপন করা হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ জন কৃষক ও ৫ হাজার ৭৬০ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, পারিবারিক পর্যায়ে নিরাপদ ও মানসম্মত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষক গ্রুপ পর্যায়ে ক্ষুদ্র কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন ৪ হাজার ৫৫৪টি ফুট পাম্প, ৯ হাজার ১০৮টি হ্যান্ড স্প্রেয়ার, ১৩ হাজার ৬৬২টি বাডিং নাইফ, ১৩ হাজার ৬৬২টি বুশ কাটার সরবরাহ করা হবে।