সব বন্দীকে মুক্তি না দিলে শান্তি প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে বলে আবারও হুঁশিয়ার করেছে তালেবান

24
সব বন্দীকে মুক্তি না দিলে শান্তি প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে বলে আবারও হুঁশিয়ার করেছে তালেবান। ছবি-সংগ্রহ

সুপ্রভাত বগুড়া (আন্তর্জাতিক): তালেবান আফগানিস্তানের তাদের বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। গেল বছর মার্কিন সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আফগান সরকার তালেবানের অন্তত ৫ হাজার বন্দীকে মুক্তি দেয়ার কথা। তবে সেটি অস্বীকার করে আসছে আফগান সরকার। এই টানা পোড়েনের মধ্যেই কয়েকজনকে মুক্তিও দিয়েছে দেশটির সরকার।

তবে সব বন্দীকে মুক্তি না দিলে শান্তি প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে বলে আবারও হুঁশিয়ার করেছে তালেবান।
কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক দফতরের মুখপাত্র সোহেল শাহিন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম অ্যারাবিয়া নিউজকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন, তালেবান বন্দীদের মুক্তি বিলম্বিত করে শান্তি প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে না ফেলাই হবে আফগান সরকারের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।

আমি আফগান সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন চুক্তি অনুযায়ী তালেবানের সকল বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়।সোহেল শাহিন বলেছেন, আফগান সরকার সব তালেবান বন্দীকে মুক্তি দিলে তারা সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছেন। তালেবানের পক্ষ থেকে আফগান সরকারের বন্দীদের মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে বলে দাবি করেন এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, কিন্তু আফগান সরকারের পক্ষ থেকে তালেবান বন্দীদের মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।
সোহেল শাহিন তালেবান বন্দীদের মুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ না করার জন্য কাবুল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেক্ষেত্রে শান্তি প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যাবে।

তালেবান মুখপাত্র এমন সময় এসব কথা বললেন যখন আফগান সরকারের মুখপাত্র সিদ্দিক সিদ্দিকি সোমবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার এখন পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ তালেবান বন্দীকে মুক্তি দিলেও তালেবান মুক্তি দিয়েছে মাত্র ৭০০ সরকারি বন্দী। তিনি বলেন, বন্দী মুক্তি দেয়ার বিষয়ে আফগান সরকার তার প্রতিশ্রুতি পালন করা সত্ত্বেও তালেবান আলোচনা বসতে রাজি হচ্ছে না।

দু’পক্ষের মধ্যে এক সমঝোতা অনুযায়ী, তালেবান এক হাজার সরকারি বন্দীকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে তাদের পাঁচ হাজার বন্দীকে আফগান সরকারের কারাগার থেকে মুক্ত করবে। দেশটির কয়েক দশকের সংঘর্ষ ও রক্তপাত অবসানে সরকারের সঙ্গে তালেবানের শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রক্রিয়া এই বন্দী মুক্তির ওপর নির্ভর করছে।