সাত জাতের কমলা দিনাজপুর অঞ্চলে

8
সাত জাতের কমলা দিনাজপুর অঞ্চলে

পাহাড়ি অঞ্চলের কমলা চাষ দিনাজপুর অঞ্চলে হবে এ রকম কেউ না ভাবলেও এখন এটি সম্ভব করেছে চাষিরা। এখন দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের কমলা চাষ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কেউ বণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন।

কিন্তু এবার দিনাজপুরে একই জমিতে সাতটি জাতের কমলা পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। দার্জিলিং, ম্যান্ডারিন, চায়না, পাকিস্তানি, ছাতকি, নেপালি ও নাগপুরি জাতের কমলা চাষ করে বাজিমাত করেছেন তিনি। তার কমলা গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ রঙ্গের কমলা। আর এই সুন্দর প্রকৃতি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে কমলার বাগানে আসছেন নানা বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।
২০০১ সালে ৩৩ শতক জমি নিয়ে ঘোড়াঘাট পৌরসভার নুরজাহানপুর এলাকায় বিসমিল্লাহ নামে নার্সারি গড়ে তোলেন জাহাঙ্গীর আলম। গত কয়েকবছরে নার্সারির পরিধি বেড়ে বিস্তার লাভ করে ৪ একর জমিতে। বর্তমানে নার্সারিতে বাহারি জাতের দেশি-বিদেশি ফলজ, ফুল, মসলা ও ওষুধি গাছও রয়েছে।

Pop Ads

বাগানে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ ফিট উচ্চতার কয়েকটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রঙিন দার্জিলিং ও ম্যান্ডারিন জাতের কমলা। ১০ থেকে ১৫ ফিট উচ্চতার আরো কয়েকটি গাছে ঝুলছে পাকিস্তানি ও চায়না জাতের কমলা। এসব কমলার রং সবুজ মিশ্রিত। ২০২০ সালের জুন মাসে জাহাঙ্গীর তার নার্সারির মধ্যে ১ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন জাতের কমলার চাষ করেন। কমলা চাষের শুরুতে নানা শঙ্কা থাকলেও এখন তিনি সফলতার পথে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় হলুদ কমলা। কমলা বিক্রি করে এবছর খরচ বাদে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়াও তিনি কমলার চারা ১০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বাগান থেকে বিক্রি করছেন।
কমলার বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী শফিকুল ইসলাম, রুহুল আমিন জানান, এ রকম কমলার বাগান আগে দেখিনি। প্রতিটি গাছেই কমলায় পরিপূর্ণ। কমলা ছিড়ে খেয়ে দেখেছি অনেক মিষ্টি। যার কারণে বাগান করার কথা ভাবছি।
ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের নুরজাহানপুর গ্রামের নার্সারি মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৩ বছর আগে আমার নার্সারির ১ একর জমিতে পরীক্ষামূলক কমলা চাষ করি। বর্তমানে বাগানে পরিপূর্ণভাবে কমলা ধরেছে, সুস্বাদু হওয়ায় এ কমলার অনেক চাহিদা। আমি বাগান থেকেই ৩২০ টাকা দরে কমলা বিক্রি করছি।
সব গাছে ফল আসলেও, স্বাদ ও মানের দিক থেকে সফলতা পেয়েছেন দার্জিলিং, ম্যান্ডারিন এবং নাগপুরি জাতের কমলায়। আগামীতে এই তিনটি জাতের কমলা নিয়ে বৃহৎ কমলার বাগান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এইসব জাতের কমলার বাণিজ্যিক চারা তৈরি করা হচ্ছে। কমলার বাগান এবং চারা বাগানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭ জন কৃষি শ্রমিকের।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রফিকুজ্জামান জানান, কমলা চাষের জন্য ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাসহ গ্রীষ্মকালে কমলা ক্ষেতে ছাউনি দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। গাছ প্রতি পটাশ ১২০ গ্রাম ও বোরণ ২০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে এবং গাছের গোড়ার দিকে অপ্রয়োজনীয় ডাল ছাটাইয়ের পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। কমলা চাষ বাড়াতে নানা পরামর্শ ও কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
নিয়ম মেনে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মাটিতেও কমলা চাষে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। কমলা চাষি জাহাঙ্গীর আলম তার একটি উদাহরণ মাত্র।