সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে নয়, বরং সেবা নিয়ে পুলিশ যাবে জনগণের দোর‌গোড়ায় : আইজিপি

20
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। ছবি-সংগৃহীত

সুপ্রভাত বগুড়া (জাতীয়): সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে নয়, বরং সেবা নিয়ে পুলিশ যাবে জনগণের দোর‌গোড়ায়। ঠিক এমনটিই চান বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। বর্তমান প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের কাছে সেবা নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে আইজিপি সব ইউনিট প্রধানদের নির্দেশনাও দিয়েছেন।

তিনি চান পুলিশকে আরো উন্নত এবং আধুনিক করে জনগণের খুব নিকটে নিয়ে যেতে। আজ সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) সোহেল রানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রতিটি ইউনিয়নকে একেকটি বিটে ভাগ করে প্রতিটি বিটের দায়িত্বে একজন পুলিশ কর্মকর্তা‌কে নি‌য়োজিত করা হবে।

তিনি নিয়মিত ওই ইউনিয়নের মানুষের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যা ইত্যাদির খোঁজখবর নিবেন। প্রতিনিয়ত জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন, তাঁদের মতামত জানবেন। তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণের সমস্যার সমাধান করবেন এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করবেন।’ আইজিপি ময়মনসিংহ ও সিলেটে বিট পুলিশিংয়ের সাফল্য উল্লেখ করে বলেন, ‘এসব এলাকায় বিট পুলিশিং সফল হয়েছে।

আমরা সারা দেশে বিট পুলিশিং চালু করতে চাই। মানুষের কাছে যেতে চাই। মানুষের হৃদয় জয় করতে চাই।’ ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘করোনার সময় জনগণকে আমাদের কাছে আসতে হয়নি। আমরা জনগণের কাছে গেছি। তাঁদের পাশে থেকেছি। তাঁদেরকে করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে নিজেরা আক্রান্ত হয়েছি। জীবন বিলিয়ে দিয়েছি। তাঁদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি। তাঁদের ধান কাটার ব্যবস্থা করেছি। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির আপনজনরা যখন কাছে আসেনি, তখন আমরা মৃতের লাশ দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছি।’ আইজিপি বলেন, ‘এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল না, কিন্তু আমরা মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজটি করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ অনবদ্য ভূমিকার জন্য আমাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দেশবাসী অকুণ্ঠচিত্তে আমাদের প্রশংসা করছেন। দেশের জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিরা আমাদের পক্ষে কলম ধরেছেন। আমরা মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে পেরেছি।’ ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘একদিন করোনা থাকবে না, তখনও মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ধরে রাখার জন্য আমাদের নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে একযোগে কাজ করতে হবে।

জনগণের পুলিশ হতে হলে পুলিশকে মাদকমুক্ত হতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য মাদক গ্রহণ করবে না। মাদকের ব্যবসা করবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। বাংলাদেশকে একটি মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে যুথবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, ‘কোনো পুলিশ সদস্য অবৈধভাবে কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন না। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কেউ যদি বড়লোক হতে চায়, তাহলে সে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করুক।

বড়লোক হোক, আমরা তাকে সাধুবাদ জানা‌বে। কিন্তু, পুলিশে থেকে কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা যা‌বে না।’ আইজিপি বলেন, ‘জনগণকে ভালবাসতে হবে। তাঁদের পাশে থাকতে হবে। তাঁদের জন্য কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পুলিশকে সব ধরনের নির্যাতন থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের পুলিশ হতে হবে।

মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে, তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্সেরও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে কোনো পুলিশ সদস্য চাকরিরত অবস্থায় নিহত হলে অথবা কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। আমরা চাকরিরত অবস্থায়ই পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্সের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চাই।

তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে জনগণকে সর্বাধিক সেবা দিতে পারেন।’ গতকাল রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ সিএমপি, কেএমপি আরএমপি, বিএমপি, রংপুর মহানগর পুলিশ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল রেঞ্জ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, র‍্যাব, পিবিআই, রেলওয়ে, টুরিস্ট,

হাইওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন। সে সময় তিনি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের কাছে সেবা নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে নানা দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

বেনজীর আহমেদ তাঁর বক্তব্যের শুরুতে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে আত্মদানকারী পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি করোনায় মৃত পুলিশ সদস্যদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে আক্রান্ত হওয়া পুলিশ সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।