সিরিজ জিতে রেকর্ড গড়লেন মিলার

44
সিরিজ জিতে রেকর্ড গড়লেন মিলার

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রোটিয়া স্পিনার তাবারাইজ শামসির ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়ে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে ইংল্যান্ড। আর এতেই ইংলিশদের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রোববার (৩১ জুলাই) সাউদাম্পটনে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রিজা হেনড্রিকসের অনবদ্য ৭০ রান ও এইডেন মার্করামের ৫১ রানে ভর করে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১০১ রানে থামে ইংলিশদের ইনিংস। নিয়মিত অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়কত্ব করেন ডেভিড মিলার। সুযোগটা পেয়েই ইতিহাস গড়েছেন কিলার খ্যাত এই ব্যাটার। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ বিজয়ী প্রোটিয়া অধিনায়ক যে এখন তিনিই।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই অবশ্য হোঁচট খায় প্রোটিয়ারা। ডেভিড উইলির বলে কোনো রান করার আগেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। তবে আরেক ওপেনার রিজা হেনড্রিকস দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রাইলি রুশোকে নিয়ে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ। দুজনের ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন স্পিনার মঈন আলী। আগের ম্যাচে ৫৫ বলে অপরাজিত ৯৬ রান করা রুশো এদিন প্যাভিলিয়নে ফেরেন ১৮ বলে ছয় চারে ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে।

এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে মার্করাম ও রিজার জুটিতে আসে ৮৭ রান। ঠিক ৫০ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৭০ রান করে ক্রিস জর্ডানের বলে বাটলারের গ্লাভসবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রোটিয়া ওপেনার। এরপর ক্রিজে নেমে মাত্র ৯টি বল মোকাবিলায় ৩ চার ও এক ছক্কার মারে ২২ রান করে উইলির শিকার হন প্রোটিয়া অধিনায়ক ডেভিড মিলার।

অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে ৩৬ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মার্করাম। তার উইলো থেকে আসে ৫টি চারের মার। তাতে জয়ের জন্য বড় লক্ষ্যই পেয়ে যায় প্রোটিয়ারা। ইংলিশদের পক্ষে ২৫ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি উইলি। জবাব দিতে নেমে ইংলিশরা শুরুটা দেখেশুনে করলেও তাদেরকে হাত খুলে খেলার সুযোগ দেননি প্রোটিয়া বোলাররা।

স্বাগতিক শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন কেশভ মহারাজ। লুঙ্গি এনগিদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ১৪ রান করে ফেরেন বাটলার। আরেক ওপেনার জেসন রয়কে ফেরান এনরিখ নরকিয়া। ১৮ বলে ১৭ রান করেন রয়। এরপর ১১ বলে ৭ রান করা ডেভিড মালানকে ফেরান অ্যাডিলে ফেহলুকায়ো। পরে ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করা জনি বেয়ারস্টোর উইকেটটিও তুলে নেন মহারাজ।

এরপর আক্রমণে এসে স্বাগতিকদের আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেননি তাবারাইজ শামসি। তার বাঁহাতি ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়ে একে একে সাজঘরের পথ ধরেন লিয়াম লিভিংস্টোন (৩), স্যাম কারান (৯), ডেভিড উইলি (০), ক্রিস জর্ডান (১৪) ও আদিল রশিদ (০)। আর তাতেই ৯০ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা। ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ৩২ বছর বয়সী শামসি। এটিই তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।