সীমান্তে বসানো হচ্ছে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র; যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিতে ভারত-চীন !!

33
সীমান্তে বসানো হচ্ছে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র; যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিতে ভারত-চীন !!

যে কোন মুহুর্ত্বে বাজতে শুরু করবে যুদ্ধের দামামা !

সুপ্রভাত বগুড়া (আন্তর্জাতিক): গত কয়েক দিন ধরেই লাদাখ সীমান্তে সংঘাতের ঘটনায় ভারত-চীনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধের প্রস্তুতিতে অনড় অবস্থানে প্রতিপক্ষ দুই দেশ। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে সেনা সংখ্যা বাড়ানোসহ বোমারু বিমান পাঠিয়েছে চীন। চীনের এমন কাণ্ডে খেপেছে ভারত।

চীনকে নিজের সক্ষমতা দেখাতে বোমারু বিমান ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত। এরই মধ্যে ৪৫ লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে পূর্ব লাদাখে। চীন কোনও রকম আগ্রাসন দেখালেই পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর পাশাপাশি বার্তাও যাচ্ছে বেইজিংয়ে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন দৌলতবেগ ওল্ডিসহ বেশ কিছু সীমান্ত এলাকার পাশ দিয়ে চপার উড়িয়েছে চীন। সীমান্তের কাছে নিয়ে এসেছে বোমারু বিমান। পাল্টা জবাব দিল নয়া দিল্লিও। পূর্ব লাদাখে পাঠানো হল ক্ষেপণাস্ত্র।

ভূমি থেকে আকাশে দ্রুত লক্ষ্যভেদে সক্ষম ‘আকাশ’-সহ ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভার পৌঁছাল। ভারতে তৈরি হয়েছে ভূমি থেকে আকাশে ছোড়ার ক্ষেপণাস্ত্র ‘আকাশ’। নিমেষে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে ধ্বংস করতে সক্ষম।

৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে ও ১৮ হাজার মিটার উচ্চতায় থাকা শত্রুকে আঘাত করতে পারবে এটি। ফলে বোমারু বিমান ওড়ানোর আগে কয়েকবার ভাবতে হবে চীনকে।

এখানেই শেষ নয়, ভারতের আকাশ পাহারায় রয়েছে এয়ার সার্ভেল্যান্স রাডার ও যুদ্ধ বিমান। দৌলত বেগ ওল্ডিসহ ৩টি বিমানঘাঁটি সক্রিয় করেছে ভারত। সূত্রের খবর, কয়েকদিনের মধ্যে অত্যাধুনিক এয়ার সার্ভেল্যান্স সিস্টেম আসছে ভারতের হাতে।

সেই ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হবে চীনকে রুখতে। গত এক মাসে পরপর সেনা কনভয় পৌঁছেছে লাদাখে। এখন দেশের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রেরও সমাবেশ করছে ভারত।

C-17 গ্লোবমাস্টারে চাপিয়ে চণ্ডীগড় থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে T– 90  ট্যাঙ্ক একবারের পরিবহন খরচই প্রায় ১০ লাখ টাকা। উত্তর ভারতের প্রায় সব ক্যান্টনমেন্ট, বিমান ঘাঁটি থেকে আধুনিক সমরাস্ত্র পাঠানো হচ্ছে লাদাখে।

প্রায় ৪৫ হাজার সেনার সমাবেশ করা হচ্ছে লাদাখে। চীন সীমান্তের ১৫৯৭ কিমি জুড়ে ৬৫টি পয়েন্টে জোরদার হয়েছে নজরদারি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সঙ্গে এই দ্বৈরথ আরও কিছু দিন দীর্ঘ হবে। ৩ মাসের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে তুষারপাত। গোটা দেশের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে লাদাখ। সেই দীর্ঘ কঠিন সময়ের জন্যও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

এর আগে, গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক কর্নেলসহ ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান। ওই সংঘর্ষের সময় জখম হন আরও ৭৬ জন ভারতীয় জওয়ানও। সূত্র- জিনিউজ।