হাঁসের খামারে ভাগ্য বদল

এম রাসেল আহমেদ, জয়পুরহাটঃ হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার ফরিদুজ্জামানের। অল্প পুঁজি নিয়ে তিনি বছর বছর আগে হাঁসের খামার শুরু করেন। এখন তার খামার থেকে ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ফরিদুজ্জামানের বাড়ি উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের শাইলগুন গ্রামে। হাঁসের খামারে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী ।
জানা যায়, ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে প্রায় পাঁচ বছর আগে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এক হাজার জিনডিং ও খাকি ক্যাম্পবেল প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা কিনে ভ্রাম্যমাণভাবে পালন শুরু করেন ফরিদুজ্জামান। প্রথম অবস্থায় তার বাড়িতে বাচ্চাগুলো লালন-পালন করা হয়। এক মাস পর হাঁসগুলো একটি ছাপড়া ঘর তৈরি করে রাখা হচ্ছে হাঁসগুলো। সকাল হলেই ছেড়ে দেওয়া হয় বাড়ির পুকুড়ের পানিতে। গম, কুঁড়া আর ধান একত্র করে হাঁসের খাবার তৈরি করা হয়। সাড়ে তিন মাস বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে গত ৫-৬ মাস ধরে ডিম দিচ্ছে হাঁসগুলো। এক হাজার হাঁসের মধ্যে এখন রয়েছে সাড়ে আটশ’ হাঁস। প্রতিদিন খামার থেকে থেকে ডিম উৎপাদন হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ করে।খামারি ফরিদুজ্জান বলেন, আমি যুব উন্নয়ন অফিসে চাকরি করতাম,সেখানে সুবিধা করতে না পেড়ে ফিরে আসি।এরপর কোনও উপায় না পেয়ে ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার তৈরি করি। আমার নিজ বাড়িতে আনা হয় বাচ্চা। পরে খোলা মাঠে নেওয়া হয় হাঁসগুলো।এসময় ভ্রাম্যমাণ খামার হওয়ায় সব সময় হাঁসগুলো থাকে জলাশয়ে। ফলে খাবার খরচও কমে আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে। প্রতি মাসে গড়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে পাচ্ছি। গত পাঁচ মাসে প্রায় সাত লাখ টাকার মতো ডিম বিক্রি করতে পেরেছি।’ কয়েকদিনের গরমে হাঁসগুলো ডিম কম দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ফরিদুজ্জানের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুজন মিলেই শ্রম দিচ্ছি খামারে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতায় আমার স্বামী যুব প্রশিক্ষনের চাকুরী করতেন। অনেক যুব উদ্যোক্তা তিনি নিজেই তৈরী করেছেন।সেই সুবাদে চাকুরী চলে গেলে তিনি নিজেই শুরু করেন হাস পালন। খামারে প্রাথমিক চিকিৎসা এখন তিনি নিজেই দিতে পারেন।’
জয়পুরহার যুব উন্নয়ন অফিসার ( এডি) মোঃ রওশন বলেন, ‘ফরিদুজ্জানের হাঁসের খামার একটি ভালো উদ্যোগ। আশা করছি ওই খামার থেকেই তিনি তার ভাগ্য বদল করতে পেরেছেন। আশা করি তার মতো হাঁস পালন করে বাকি উদ্যোক্তা তার মতো সাবলম্বী হবেন, নিজের ভাগ্য বদল করবেন।

Related Posts

ভূট্টা চাষে ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্য মাত্রা

বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি :মোটা দানার খদ্য শস্য ভোট্রা। সবুজ পাতার ভাঁজে হালকা ডগায় সোনলী ফুলের মাঝে লুকিয়ে থাকা এ শস্য দাঁনা খােদ্যের যোগানে বিপ্লব ঘটাতে পারে কৃষিতে। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার…

সাত জাতের কমলা দিনাজপুর অঞ্চলে

পাহাড়ি অঞ্চলের কমলা চাষ দিনাজপুর অঞ্চলে হবে এ রকম কেউ না ভাবলেও এখন এটি সম্ভব করেছে চাষিরা। এখন দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের কমলা চাষ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কেউ…

You Missed

বাংলা নাটকের যুগস্রষ্টা বাদল সরকারের স্মরণ সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলা নাটকের যুগস্রষ্টা বাদল সরকারের স্মরণ সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

হামলার শিকার সাংবাদিক নেতা রিজুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে

হামলার শিকার সাংবাদিক নেতা রিজুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে

বগুড়ায় জোড়া খুনের মামলায় কবির আহম্মেদ মিঠুসহ ৫ আসামীক কারাগারে প্রেরণ

বগুড়ায় জোড়া খুনের মামলায় কবির আহম্মেদ মিঠুসহ ৫ আসামীক কারাগারে প্রেরণ

বগুড়ার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ‘ব্রাজিল’ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

বগুড়ার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ‘ব্রাজিল’ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ব্রাজিল খুন

বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ব্রাজিল খুন

বগুড়ায় শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী,পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী,পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত